টানা কয়েক বছর যাবৎ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার মিষ্টি আলু যাচ্ছে জাপানে, দাম ভালো পাওয়ায় বাড়ছে চাষের আগ্রহ, বাণিজ্যিকভাবে মিষ্টি আলু চাষ করে বিদেশে রপ্তানি করছেন সারিয়াকান্দির কৃষকরা। উপজেলার চরাঞ্চলে উৎপাদিত মিষ্টি আলু যাচ্ছে জাপানে। সরাসরি ক্ষেত থেকে এগুলো কিনে নিচ্ছে এক জাপানি প্রতিষ্ঠান। ভালো দাম পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে চাষের পরিমাণ। গ্রামের অবহেলিত ফসল ও বাজারে চাহিদা না থাকায় আগে বাড়ির উঠানে কিংবা সামান্য জায়গায় পরিবারের চাহিদা মেটাতে মিষ্টি আলু লাগানো হতো। দরিদ্র মানুষের ক্ষুধা নিবারণের খাবার হিসেবে পরিচিত ছিল মিষ্টি আলু। এখন সময়ের ব্যবধানে সেই মিষ্টি আলু বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে বিদেশে রফতানি হচ্ছে ।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শেরপুরে ৪৮০ হেক্টর জমিতে মিষ্টিআলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষ হয়েছে ৪৮৫ হেক্টর জমিতে। এর মাঝে নারুতু কোম্পানির চাষের আওতায় আসছে প্রায় ১৫০ বিঘার মতো। জাপানে রফতানির কথা শুনে এবং লাভজনক হওয়ায় চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। গত কয়েক বছর ধরে জাপানি কোম্পানির আগ্রহে চরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে মিষ্টি আলুর চাষ হচ্ছে। নারুতো জাপান কোম্পানি লিমিটেড এ বছর সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী ও গোদাগাড়ী চরে আলু চাষের জন্য ১২০ জন কৃষকের সঙ্গে চুক্তি করেছে। চুক্তি মোতাবেক ১৫০ বিঘার জমিতে কোকোই-১৪ জাতের আলু চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। চাষের উপকরণ বীজ, সার, কীটনাশক সব বিনামূল্যে দিয়েছে কোম্পানি। উৎপাদনের পর প্রকল্পের সব আলু প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি মাঠ থেকে কিনে নেবে। গত বছর ৫৮০ টাকা মণ দরে কিনলেও এ বছর দাম বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করা হয়েছে। নারচী ইউনিয়নের গোদাগাড়ী গ্রামের কৃষক রুমন মিয়া জানান, একর প্রতি আলুর ফলন হয় ২৫০ থেকে ৩০০ মণ পর্যন্ত। যা দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। পরিচর্যা ও উত্তোলনের শ্রমিক খরচ ছাড়া আর কোনও খরচ নেই তাদের।
নারচী ইউনিয়নের গোদাগাড়ী গ্রামের কৃষক ফল্টু মিয়া বলেন, জাপানী কোম্পানি তাদের সার, বীজ, কীটনাশক সবকিছু দিয়েছে। উৎপাদিত আলু ৭০০ টাকা মণ দরে কিনে নেবে। এক বিঘা জমিতে ৮০ থেকে ৯০ মণ আলু সাধারণত ফলন হয়। তাদের সম্ভাব্য খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। চাষ শুরু করতে হয় অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহে আলু সংগ্রহ করেন, এতে মোট ১২০ দিন সময় লাগে। বিঘাপ্রতি আলুর বিক্রয় মূল্য হবে ৬০ হাজার টাকার মতো। এতে তাদের ৪৫ হাজার টাকা লাভ থাকবে। নারুতো জাপানের সারিয়াকান্দি উপজেলার দায়িত্বে থাকা ফিল্ড অফিসার মো. শাহাতাব হোসেন (সঞ্জয়) জানান, কোম্পানিটি আলু কিনে নিয়ে সেদ্ধ, চিপস, মিষ্টি এসব তৈরি করে বিক্রি করে। এছাড়াও আর কয়েক প্রকার যেনন বেকিং, কাচা সুপার শপে, ফ্রোজেন করেও বিক্রি করে থাকে। প্রতি বছর চাষের আওতা বাড়ানো হচ্ছে, এতে এলাকার কৃষকরা সহযোগিতা করছে। তারা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছলতা পাচ্ছে। এসব কারণে কৃষকরা এতে খুব আগ্রহী। সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, সারিয়াকান্দি চরাঞ্চলের মাটি মিষ্টিআলু চাষের জন্য খুবই উপযোগী। জাপানের একটি কোম্পানি মিষ্টি আলুর উদ্যোক্তা হওয়া এবং তারা এ আলু চাষ করায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। আলু প্রক্রিয়াজাত করে অনেক খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে। বড় বড় বিভাগীয় শহরে চিপস, মিষ্টি রেডিফুড তৈরি করে বিক্রি করছে। তিনি আরও বলেন, উৎপাদিত আলু ভীষণ স্বাদের। অন্যান্য মিষ্টি আলু ওপরের অংশ (ছাল) সাধারণত ফেলে দেয়া হয়। কিন্তু মিষ্টি আলু চামড়াসহ খাওয়া যাবে। জাপানিরা এ আলু সেদ্ধ করে কেকের মতো প্যাকেট করে বিক্রি করে থাকে।