রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নীতিগত সংস্কার ছাড়া দেশে নারীর নেতৃত্ব ও লৈঙ্গিক সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়– এমন মন্তব্য করেছেন নীতি সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, নারী অধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, বর্তমানে নারীরা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন এবং প্রায় ৭০ শতাংশ নারী নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না। গতকাল বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নারী নেতৃত্ব, লৈঙ্গিক সমতা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার‘ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে।
বাংলাদেশ নারী নেতৃত্ব জোটের সভাপতি নাসিম ফেরদৌস বলেন, ‘সংবিধানে নারীদের অধিকার স্বীকৃত হলেও বাস্তবে সেই অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয় না। রাজনীতিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব খুবই সীমিত এবং যারা আছেন, তারাও নারীদের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না।‘
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘নারীদের স্বাধীনতা আগের তুলনায় বেড়েছে, তবে নেতৃত্বে তাদের সুযোগ এখনও সীমিত। প্রকৃত উন্নয়ন চাইলে নারীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্বে আসার সুযোগ দিতে হবে এবং তা আইনগতভাবে নিশ্চিত করতে হবে।‘
রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে নারী-পুরুষ সমতা নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে নারী-পুরুষ সমতা নেই, যার প্রতিফলন সমাজেও দেখা যায়।’ তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যন্ত সব পর্যায়ে ৪০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।‘ একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপপ্রচারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।