গাজীপুরের শ্রীপুরে অজ্ঞাতনামা এক যুবককে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে লাশ গুম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছয়জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে শ্রীপুর থানার একটি চৌকস আভিযানিক দল।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দিন জানুয়ায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোর আনুমানিক ৭টার দিকে শ্রীপুর থানাধীন টেংরা এলাকার বৃন্দাবন মোড় সংলগ্ন শিশুপল্লী থেকে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগামী পাকা সড়কের উত্তর পাশে আগুনে পোড়া অবস্থায় এক অজ্ঞাত পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের গলায় পোড়া কাপড় পেঁচানো ছিল এবং গলায় চন্দ্রাকৃতির দাগ স্পষ্ট দেখা যায়।
সংবাদ পেয়ে শ্রীপুর মডেল থানার এসআই (নি:) এবিএম রুহুল কাইয়ুম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেন। লাশের আঙুল পুড়ে যাওয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। পরে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রোফাইলের জন্য লাশটি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় ১ মার্চ শ্রীপুর মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই (নি:) মোঃ লালচাঁন মিয়াকে।
পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার, কালিয়াকৈর সার্কেলকে প্রধান করে একটি বিশেষ আভিযানিক টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জন সন্দেহভাজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার বাগুয়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে ইমরান হাসান (২৪), গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকার আমিনুল ইসলামের ছেলে টুটুল হাসান (২০), শ্রীপুরের মুলাইদ এলাকার আব্দুল আলীর ছেলে নাজমুল (৩৫), টেপিরবাড়ী এলাকার আব্দুল সামাদের ছেলে কামাল হোসেন (৩২), শ্রীপুর উপজেলার আবুল কাসেমের ছেলে রুহানুল ইসলাম রুহান (২৩) এবং মুলাইদ এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোঃ আকবর (২৯)।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার কামালপুর এলাকার তাইজুল ইসলামের ছেলে মোঃ আতিকুর রহমান (২৩)।
তদন্তে আরও জানা যায়, শ্রীপুরের নাজমুল পরিচালিত একটি সমিতি থেকে আতিকুর রহমান নিজের নামসহ পরিবারের সদস্যদের নামে লক্ষাধিক টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণের টাকা পরিশোধ না করে আত্মগোপনে গেলে আসামীরা তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে শ্রীপুরের মুলাইদ এলাকায় নাজমুলের বাড়িতে এনে আটক রাখে।
পরবর্তীতে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত যেকোনো সময় আসামীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে কাঁঠাল পাতায় ভর্তি একটি বস্তার মধ্যে লাশ ভরে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হলে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বাগুয়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে ইমরান হাসান ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
এ নৃশংস ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ চলছে।