সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ঢাকা থেকে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় পাঠানো প্রায় চার কোটি টাকার একটি লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।

নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন গতকাল মঙ্গলবার রাতে সংগ্রামকে জানিয়েছেন, একটি সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার ব্যবস্থাপককে ডেকে আপাতত টাকা লেনদেন না করে ব্যাংকের উর্দ্ধতনদের জানিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী সিন্ধান্ত নিতে বলেন। ফলে মঙ্গলবার টাকাটি হস্তান্তর করা হয়নি। এতে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখার কয়েক হাজার গ্রাহক ভোগান্তিতে পরেছেন।

এদিকে নাটোর- আসনে বিএনপি প্রার্থী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু মঙ্গলবার বিকেলে শহরের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা থেকে সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় সন্দেহভাজন প্রায় চার কোটি টাকা পাঠানো হয়। জানতে পেরে তিনি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ওই লেনদেন স্থগিত রাখার আবেদন করেন।

অভিযোগ পেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। ফলে লেনদেনটি করা হয়নি। অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ভোটের ঠিক এক দিন আগে এতগুলো টাকা উত্তোলনের বিষয়টি সন্দেহজনক। এই টাকা ভোট কেনাবেচার কাজে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তিনি লেনদেনটি স্থগিত রাখা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেছেন।

ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখার কর্মকর্তা (এভিপি) রেজাউল করিম বলেন, চার কোটি টাকা লেনদেন ইসলামী ব্যাংকের জন্য তেমন কোনো বড় লেনদেন নয়। ভোটের সময় ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তাই ব্যাংকের ৯টি এটিএম বুথের জন্য এসব টাকার চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখায় এমন লেনদেন নিয়মিতই হয়ে থাকে। লেনদেন স্থগিত করা আমাদের ৩টি এটিএম বুথে কোন টাকা নেই। অনেক গ্রাহক টাকা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

শামীম হোসেন নামের এক ব্যাবসায়ী বলেন, আমি প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা লেনদেন করি সকালে বুথে গিয়ে দেখি টাকা নেই। আমি বাকিতে পন্য ক্রয় করেছি এখন তাদের টাকা পরিশোধ করতে পারছি না। ইসলামী ব্যাংক চাঁচকৈড় শাখার কর্মকর্তা সেত্তাজুল হক (ম্যানেজার) বলেন, আমি দেড় কোটি টাকার চাহিদা দিয়েছিলাম একটি টাকাও পাইনি ২টি বুথ বন্ধ হয়ে গেছে বাকি গুলো আজ সন্ধার মধ্যে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সোনালী ব্যাংক নাটোর প্রধান শাখার কর্মকর্তা (এজিএম) উজ্জল কুমার বলেন, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে ডেকে উর্দ্ধতনদের জানিয়ে পরবর্তি সিন্ধান্ত নিতে বলায় তিনি আজ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জানিয়েছেন। ভোটের আগে আজ শেষ কর্মদিবস থাকায় আপাতত এই টাকা লেনদেন বন্ধ রয়েছে। ভোটের পর ব্যাংক খুললে এ বিষয়ে সিন্ধান্ত জানানো হবে।