মোংলা সংবাদদাতা : সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ও মাছের পোনা আহরণের ঘটনায় বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। পৃথক দুটি অভিযানে তিনটি ট্রলারসহ ২৫ জন জেলেকে আটক করেছে বনরক্ষীরা। জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৪০০ কেজি পারশে মাছের পোনা।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বগী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ফরেস্টার দিলীপ মজুমদারের নেতৃত্বে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে বলেশ্বর নদীতে টহল চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রলার আটক করা হয়। ধাওয়া শেষে ট্রলারটি জব্দ করে তল্লাশিতে ১৫০ কেজি পারশে পোনা উদ্ধার করা হয় এবং ১০ জেলেকে আটক করা হয়। আটকরা খুলনার দাকোপ ও পাইকগাছা এলাকার বাসিন্দা। বনরক্ষীরা জানান, তারা রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ এলাকা থেকে পোনা নিয়ে ফিরছিলেন।
একই দিনে বিকেলে কোকিলমোনি এলাকায় আরেকটি অভিযানে আরও দুটি ট্রলারসহ ১৫ জেলেকে আটক করা হয়। সেখান থেকে ২৫০ কেজি পোনা জব্দ করা হয়। দিনব্যাপী অভিযানে মোট তিনটি ট্রলার ও ২৫ জেলে আটক হয়।
স্থানীয় কয়েকজন জেলের অভিযোগ, দুবলা ফরেস্ট স্টেশনের সহকারী কর্মকর্তা মোস্তাকিন বিল্লাহ ও কিছু বনরক্ষকের মদদে দীর্ঘদিন ধরে অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধ মাছ শিকার চলছে। অভিযোগ রয়েছে, অনুমতির বিনিময়ে অর্থ নেওয়া হয়। তবে মোস্তাকিন বিল্লাহ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিষিদ্ধ খালে মাছ ধরার বিষয়ে তিনি অবগত নন। দুবলা স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জার মিলটন রায় জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক জেলেদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং জব্দকৃত পোনা নদীতে অবমুক্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।