উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ৩৩ শতাংশ কোটা বাতিলের দাবিতে গাজীপুরে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রেলপথ অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে প্রায় আট ঘণ্টা ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। হঠাৎ করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিমুলতলী এলাকা থেকে একটি বড় বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ভুরুলিয়া মাঝিরখোলা রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছে রেললাইনের ওপর অবস্থান নেয় এবং সেখানে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে। এতে জয়দেবপুর জংশন হয়ে চলাচলকারী সব ট্রেন কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

আন্দোলনকারীরা বলেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য কোটা নির্ধারণ করা হলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ন্যায্য কর্মসংস্থানের সুযোগ মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে। তারা অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। একপর্যায়ে তারা রেলপথ না ছাড়ার ঘোষণাও দেন।

জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, কাইয়ুম আলী জানান, অবরোধের কারণে বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার, মাহমুদুল হাসান জানান, সকাল ১০টা ১০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট পর্যন্ত জয়দেবপুর জংশন দিয়ে কোনো রুটেই ট্রেন চলাচল সম্ভব হয়নি। এ সময় বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস, চিলাহাটি এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, বলাকা এক্সপ্রেস, হাওড় এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস, তিস্তা এক্সপ্রেস, জামালপুর এক্সপ্রেস, যমুনা এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসসহ অন্তত ১৮টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে।

তিনি আরও জানান, অবরোধ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা রেলক্রসিং গেট এলাকার চারটি ব্যারিয়ার ভেঙে ফেলেন। সারাদিন অবরোধ কর্মসূচি পালনের পর সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নিলে ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। অনেক যাত্রী দ্রুত সমস্যার সমাধান ও এমন কর্মসূচির বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানান, যাতে সাধারণ মানুষকে বারবার ভোগান্তির শিকার হতে না হয়।