মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতীয় চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ কে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান অনুসারী দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক জুলাই যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বারৈয়ারহাট পৌরসদরের ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফুটওভার ব্রীজের নিচে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যোদ্ধা গাজী তাহমিদ খান, বারৈয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম লিটন, ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল, বারইয়ারহাট কলেজ ছাত্রদল আহবায়ক ম্যাক্স বাদশা, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক এমরান, ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোহন দে, ২ নং হিংগুলী ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দল এর সদস্য সচিব জুবায়ের।

স্থানীয়রা জানায়, আহতরা সবাই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের অনুসারী। তারা বারৈয়ারহাট পৌরসভার জনতার মেয়র খ্যাত দিদারুল আলম মিয়াজীর নেতৃত্বে নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবক জানান, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান অনুসারী বিএনপি নেতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম লিটন, কমরান সরোয়ারদী, মোজাম্মেল ভারতীয় চোরাচালানের সাথে জড়িত। তারা ভারত থেকে চোরাই পথে ভারতীয় বস্ত্র, কসমেটিকস, ঔষধ ও মাদক আমদানি করেন।

অপরদিকে বারৈয়ারহাট পৌরসভা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোহন দে, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিনহাজ উদ্দিন টিটু, রফিক, এমরান, ম্যাক্স বাদশা, জোবায়ের এসব চোরাচালান আটক করে মালামাল লুট ও চাদা আদায়ের সাথে জড়িত। গত এক বছর ধরে বেশ কয়েকটি চোরাচালান আটক করে মাসোহারা আদায় করে তারা। চাদা দিতে গড়িমসি করায় বারৈয়ারহাট রেলক্রসিং এলাকায় কৃত্রিম ভাবে জ্যাম সৃষ্টি করে চোরাচালানের মালামাল লুট করে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই দুই পক্ষের সাথে দন্ধ চলে আসছিলো। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যায় বারৈয়ারহাট বাজারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তাহমিদ ও ছাত্রদলের নেতা জোবায়ের পায়ের উপর পা তুলে চা খাওয়াকে কেন্দ্র করে চড়াও হন মোজাম্মেল। এসময় জোবায়েরকে লাথি দেন তানি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষ লোক জড়ো করে স্বশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের জ্ঞাত ও অজ্ঞাত ১০ জনের মতো আহত হন। আহতদের মধ্যে তাহমিদকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

তাহমিদের মৃত্যু বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন আপ বাংলাদেশ নামে রাজনৈতিক সংগঠন। তাহমিদের বোন পারিহা জানান, তাহমিদ একজন কোরানে হাফেজ। তারা দুই বোন এক ভাই। বাবা আলাউদ্দিন একজন বাস চালক। হিফজ শেষ করার পর তাহমিদ বর্তমানে স্থানীয় একটি মাদরসায় নবম শ্রেণীতে পড়ে। সামাজিক কাজকর্ম তার একপ্রকার নেশা। এক মাত্র ভাইকে হারিয়ে তার স্মৃতি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন থেকে সংবর্ধনা ক্রেষ্ট হাতে নিয়ে বোনের পাশে বিলাপ করছেন অপর বোন আকলিমা আক্তার। মা বিবি জোহরা একমাত্র কলিজারধনকে হারিয়ে বাবার মুর্চা যাচ্ছে না। বুক চাপড়িয়ে বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার কোরানের পাখিকে তারা হত্যা করেছে। আমার কোরানের পাখিকে আমার বুকে ফিরিয়ে দিন। আমার কোরানের পাখির সাথে আমি কথা বলতে চাই।

বারৈয়ারহাট পৌরসভা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোহন দে জানান, তাহমিদ সাম্প্রতিক ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে চাইলে তাকে বারৈয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজীর সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দেন। এর পর থেকে মোহন দে এর সাথে চলা ফেরা করছেন। বারৈয়ারহাট পৌ বিএনপির সাবেক আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মিনহাজ উদ্দিন টিটু ও মোহন দে সহ ৩ জনকে ধরে সিএনজিতে তুলে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন তাহমিদ মারা গেছে।

চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই থেকে মনোনীত বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান বলেন, দোকানে চা খাওয়ার সময় পায়ের উপর পা তোলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুটি গ্রামের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে। এখানে কোন রাজনীতি কিংবা মাদক চোরাচালানের আধিপত্যের যোগসূত্র আছে বলে আমার মনে হয়না। জোরারগঞ্জ থানা নবাগত অফিসার ইনচার্জ কাজি নাজমুল হোসাইন বলেন, তিনি একটি মিটিং এ আছেন। তাই বিস্তারিত বলতে পরছেন না। তবে তিনি জানান, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। সেই রেশ থেকে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এই সংবাদ লিখা পর্যন্ত নিহত তাহমিদ খানের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে। তার পোস্টমর্টেম শেষে মিরসরাই নিজ এলাকায় জানাজার ব্যবস্থা করা হবে।