তীব্র শীতে কাঁপতে থাকা অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন। রাতের অন্ধকারে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে ঘুরে শীতার্ত মানুষের গায়ে নিজ হাতে কম্বল তুলে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুজ্জাহান কনক।
গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কম্বল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় ইউএনও’র সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খালেদুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিয়ারাজ হোসেন খান।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। সেই প্রেক্ষিতে সরকারি উদ্যোগে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউএনও’র নেতৃত্বে ঈশ্বরীপুরের ক্লিনিক মোড় এলাকার খ্রিস্টান মিশনারিজ চার্চ, নুরনগরের হাবিবপুর আহম্মদিয়া এতিমখানা এবং রামজীবনপুর এলাকার মা খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদ্রাসায় শতাধিক কম্বল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ঋষিপাড়া, উত্তর কদমতলা, ঈশ্বরীপুরের আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত মানুষসহ বংশীপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া রাস্তায় ও পথে পাওয়া শীতার্ত মানুষদের শরীরেও কম্বল জড়িয়ে দেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত কদমতলা গ্রামের মনোয়ারা বেগম বলেন, জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও তিনি আগে কখনো এমনভাবে কম্বল পাননি। হাবিবপুর আহম্মদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ নুরুল ইসলাম জানান, সরাসরি সরকারি কর্মকর্তারা অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় তারা বড় উপকার পেয়েছেন।
রাতের বেলা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণের এই মানবিক উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ছবি: হাবিবপুর মাদ্রাসা ও ক্লিনিক মোড়ের চার্চে প্রশাসনের কম্বল হস্তান্তর।