গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া মধ্যপাড়া এলাকায় এক মার্কিন নাগরিকের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রোববার বাসন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

ভুক্তভোগী মো. আকরাম হোসেন জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী নাগরিক। পারিবারিক প্রয়োজনে বর্তমানে তিনি গ্রামের বাড়ি ভোগড়ায় অবস্থান করছেন। এলাকায় তার একটি আবাসন ভবন ও কয়েকটি দোকান রয়েছে, যেগুলো ভাড়া দেওয়া।

তিনি আরও জানান, কয়েক বছর আগে এলাকার কয়েকজন মিলে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে ট্রান্সফরমার কিনে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে তার দোকানের পাশের নবনির্মিত টিনশেড ভাড়া বাড়িতে ওই ট্রান্সফরমার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছিল। এ সময় তিনি জানতে চান, সেখান থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে কি না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আজহারুল ইসলাম ওরফে আজাদ, ফাইজুল ইসলাম ও রোকন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন আকরাম হোসেন।

ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, বিষয়টি বড় ভাইকে জানাতে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় অভিযুক্তরা তার ওপর চড়াও হয়ে শারীরিকভাবে হামলা করে। এ সময় তারা পাশের দোকানগুলোর শাটার টেনে বন্ধ করে দিতে থাকে এবং বিদ্যুৎ সংযোগে বাধা দিলে খুন-জখমের হুমকি দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ এলাকাবাসী ধারণ করে ভুক্তভোগীকে দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তদের বাবা বিএনপির নেতা হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে তার ছেলেরা নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। নতুন বাড়ি নির্মাণ বা রাস্তার পাশে ইট-বালু নামাতে গেলে চাঁদা দাবি করা হয় কিংবা তাদের দিয়ে কাজ করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। বাধা দিলে মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

আকরাম হোসেন জানান, ধারাবাহিক হুমকি ও হামলার ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি পুলিশের কাছে আইনগত সহায়তা চেয়েছেন।

অভিযুক্ত আজহারুল ইসলাম আজাদ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে ঘটনার ভিডিও ফুটেজে তার উপস্থিতির কথা জানানো হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, ভুক্তভোগী এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।