ন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় জরুরি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)। বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে ৪ মার্চ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা সরাসরি এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধরা’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী মো. নূর আলম শেখ, চুনতি রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী সানজিদা রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. গোলাম সরোয়ার এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও ইয়ুথ লিডার শেখ সাব্বির হাসান দীপ্ত।
স্মারকলিপিতে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-UNESCO-Gi World Heritage
Watch কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সুন্দরবনসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা SEA পরিচালনা এবং JICA পরিচালিত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পরিবেশগত সমীক্ষা (EIA) পুনর্মূল্যায়ন করে তা SEA-তে রূপান্তর। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পশুর নদীতে তেল ও কয়লাবাহী জাহাজডুবি প্রতিরোধ ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বনদস্যু ও জলদস্যু দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার এবং বনসংলগ্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে অবৈধ শিকার বন্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি তোলা হয়। টেংরাগিরি বনাঞ্চলে অবৈধ দখল, বন উজাড় ও চিংড়ি ঘের বন্ধ করে দখলমুক্ত করার কথাও বলা হয়। লাঠিটিলা বনে সাফারি পার্ক নির্মাণজনিত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন, দখলকৃত ভূমি উদ্ধার ও বসতি উচ্ছেদের প্রস্তাব করা হয়। চকোরিয়া সুন্দরবনের অবশিষ্ট ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার এবং মধুপুর জাতীয় উদ্যানে অবৈধ উজাড় ও শিল্পায়ন বন্ধের দাবিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এ ছাড়া অবৈধ শিকার, পাচার, বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা, পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলন ও বন দখলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রজনন মৌসুমে বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও ভাতা প্রদান, বিভাগীয় পর্যায়ে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন এবং বনের ভেতরের অবৈধ দখল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানানো হয়। পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক প্রকল্প পর্যালোচনা করে টেকসই নীতি গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়। স্মারকলিপি গ্রহণের সময় প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দাবিগুলোর যৌক্তিকতার বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেন এবং বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন এবং পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।