সংগ্রাম ডেস্ক
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় রচিত হলো গতকাল। ৫৬টি রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা কমনওয়েলথের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে,সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোটকেন্দ্র খোলার অনেক আগেই দেশজুড়ে তৈরি হয়েছিল নীরব প্রত্যাশা। সেই উত্তেজনা কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন বাংলাদেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষকরা। বিবিসি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই নীরব প্রত্যাশা রূপ নেয় সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণে। ভোটারদের ধারাবাহিক উপস্থিতিতে স্পষ্ট হয়, এটি শুধু আরেকটি নির্বাচন নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। গতকাল বৃহস্পতিবার একদিকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, অন্যদিকে ভোটাররা অংশ নেন রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর এক সাংবিধানিক গণভোটেও। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থী, যার মধ্যে নারী প্রার্থী ৭৮ জন। কমনওয়েলথের বিবেচনায়, ২০২৬ সালে এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক আয়োজন।
দেশজুড়ে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলছে। এবারের নির্বাচনের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ। প্রথমবারের মতো বিশ্বের ১২২টি দেশ থেকে বাংলাদেশি ভোটাররা ভোট দেন। নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৭২ হাজারের বেশি। পাশাপাশি ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন ১৫ লাখ ৩০ হাজার ভোটার। নির্বাচনের দুদিন আগেই কমনওয়েলথের পর্যবেক্ষক দল দেশের আটটি বিভাগে সরেজমিনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত হন।
তারা স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ভোট-পূর্ব প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি তারা তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।