জয়পুরহাট জেলা সংবাদদাতা : স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের এই যুগে শিশু-কিশোরদের বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে এবং তাদের মসজিদমুখী করার লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছে জয়পুরহাট শহরের সাহেব পাড়া জামে মসজিদ কমিটি। স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোর টানা ৪০ দিন ফজরের জামাতসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে এসে আদায় করেছে, তাদের বাইসাইকেল ও নগদ অর্থ পুরস্কার দিয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে।

সাহেব পাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে গতকাল রোববার দুপুর ৩টায় উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে এই পুরস্কার বিতরণী করা হয়।

মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে যারা সফলতার সাথে টানা ৪০ দিন মসজিদে এসে জামাতে নামাজ আদায় করেছে, তাদের তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারী ১৪ জন শিশুকে একটি করে নতুন বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ১৭ জনকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী ৬ জনকে ১ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

পুরস্কার বিতরণী এই অনুষ্ঠানটি সাহেব পাড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং জয়পুরহাট জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাঃ হাসিবুল আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মসজিদের সেক্রেটারী মাফিজুর রহমান মাফু, ইমাম ও খতিব মাও: মাহিদুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, রঞ্জু, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বাতেন, শাহ আলম মোল্লা রিপন এবং মাওলানা জোবাইদুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

হাসিবুল আলম লিটন শিশুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আমাদের শিশু-কিশোররা মোবাইল গেমস ও ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এই ভয়াবহ অবক্ষয় থেকে তাদের বাঁচাতে মসজিদ কমিটির এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। নামাজের মাধ্যমে শিশুরা যদি ছোটবেলা থেকেই নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শেখে, তবে তারা আগামী দিনে দেশ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত হবে।

এই মহতী উদ্যোগ সম্পর্কে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি আদর্শ ও মসজিদভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলা।

আমরা চেয়েছিলাম আমাদের সন্তানরা যেন খারাপ আড্ডা বা মোবাইলের স্ক্রিন থেকে দূরে সরে এসে আল্লাহর ঘরের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের ঘোষণায় ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরা আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এক বিজয়ী শিশুর বাবা অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলে আগে নামাজে যেতে আলসেমি করত। কিন্তু সাইকেলের আশায় সে টানা ৪০ দিন ফজরের সময়ও নিজে থেকে ঘুম থেকে উঠে মসজিদে গেছে।

এখন তার মধ্যে নামাজ পড়ার একটা সুন্দর অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে। আয়োজকদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।

স্থানীয় এক মুসল্লি বলেন, এটি সমাজের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমরা চাই জয়পুরহাটসহ সারাদেশের প্রতিটি মসজিদ কমিটি যেন শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করতে এমন সুন্দর উদ্যোগ গ্রহণ করে।

নতুন ঝকঝকে বাইসাইকেল ও নগদ অর্থ হাতে পেয়ে শিশুদের চোখেমুখে ছিল বাঁধভাঙা আনন্দ। পুরস্কার বিজয়ী এক স্কুলছাত্র হাসিমুখে জানায়, টানা ৪০ দিন নামাজ পড়তে পেরে আমার খুব ভালো লেগেছে। এখন আমি প্রতিদিন এই সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাব এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কখনো ছাড়ব না।

ধর্মীয় অনুশাসন ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে সাহেব পাড়া জামে মসজিদ কমিটির এই উদ্যোগ এরই মধ্যে জয়পুরহাট শহরজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।