নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা : ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নে ‘বড়াইল বাঁশ বাজার’ এখন স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২৫ বছর আগে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই বাজারে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ লাখ এবং হাটবারে (সোম ও শুক্রবার) ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার বাঁশ কেনাবেচা হচ্ছে। এতে করে ওই বাশঁ বাজারকে কেন্দ্র করে শত শত লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

সরজমিন পরিদর্শনে জানাগেছে, বড়াইল বাঁশের বাজারটিতে বরাক, মরাল, নঞ্জাইল, ওড়া, কেট্টুয়া ও পাম বাঁশ নামে এই ছয় ধরনের বাঁশ পাওয়া যায়। তাড়াইল-নান্দাইল মূল সড়কের পাশে গ্রামীণ রাস্তার দুপাশে জমিতে সারি-সারিভাবে রাখা হয় বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ। সুলভ মূল্য ও অতিরিক্ত খাজনা না থাকায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, টাঙ্গাইল ও নেত্রকোনা করাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঠিকাদার ও সাধারণ ক্রেতারা এখান থেকে বাঁশ সংগ্রহ করছেন। নির্মাণ কাজ, মুরগির খামার ও গৃহস্থালি কাজের জন্য এই বাজারটি ক্রেতাদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে। প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক বাঁশ লোড-আনলোডের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া বাজারের আশেপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল ও দোকানপাট।

স্থানীয়রা জানায়, বাজারটিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন রয়েছে জমি ১৫ কাঠা(১৫০ শতক)জমি। প্রতি কাঠা(১০ শতক)ধানি জমি বাঁশ বাজারে ব্যবহারের জন্য জমির মালিককে ১ বছরে দিতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। এর খাজনা বা টোল আদায়ের টাকা সরাসরি স্থানীয় মসজিদের তহবিলে জমা হয়। সেই টাকা থেকেই জমির মালিকের পাওনা পরিশোধ করে অবশিষ্ট অংশ মসজিদের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।

বাঁশ ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে এখানে বিভিন্ন ধরনের বাঁশ বিক্রি হচ্ছে। দূর-দূরান্তের ক্রেতারা সহ স্থানীয়রাও কৃষিকাজ এবং গৃহস্থালী কাজের জন্য বাঁশ কিনতে আসেন। প্রতিদিনই কেনাবেচা হলেও সোম এবং শুক্রবার হ”েছ হাটবার। সেদিন বেশি বেঁচা-কেনা হয়ে থাকে।

বাঁশ ক্রয়কারী জিয়াউর রহমান ও ঠিকাদার সোহেল মিয়া জানান, বাঁশ কেনার জন্য এই বাজারের সবচেয়ে বড় সুবিধা খাজনা বাবদ অতিরিক্ত কোন টাকা দিতে হয়না। তাই উনারা এখানে বাঁশ কিনতে আসেন।

স্থানীয় রাজগাতী ইউপি’র মহিলা সদস্য চম্পা আক্তার জানান, ব্যতিক্রমী এ বাজারে ক্রেতারা যে কোন সময় তাদের চাহিদা অনুযায়ি বাঁশ কিনে নিতে পারছে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের লোকজন শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছে।