চট্টগ্রামে জুলাইয়ের সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) নতুন কমিশনার উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মো. শওকত আলী। তিনি জানান, এসব মামলার তদন্তকাজ ৮২ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় নগর পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে জুলাইয়ের ঘটনায় মোট ১৫১টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে নগর ও জেলার ৯টি থানায় ৬৯টি মামলা হয়েছে, আর বাকি মামলাগুলো আদালতে নালিশি (সিআর) হিসেবে দায়ের করা হয়। এসব মামলায় নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৫০ জনকে, আর অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার।

থানায় দায়ের হওয়া ৬৯টি মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ২১ হাজার ৯০৬ জন। এর মধ্যে ১৫টি হত্যা মামলা রয়েছে। এখন পর্যন্ত একটি মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি কমিশনার বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন এবং তাদের ওপর কোনো ধরনের চাপ নেই। এ কারণে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে সময় লাগছে।

তবে ঘটনার প্রায় ২০ মাস পার হলেও মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন দপ্তর থেকে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হলেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সেই যোগাযোগ কমে গেছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক মামলায় সাক্ষী হাজির করা যাচ্ছে না, তদন্তের গতি মন্থর। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসনের বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এদিকে চট্টগ্রামের আলোচিত আন্ডারওয়ার্ল্ড ব্যক্তিত্ব সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, তাকে গ্রেফতারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আগেই অনুরোধ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং নগরীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।