চট্টগ্রাম ব্যুরো: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক) আসনে বিভিন্ন অনিয়ম, অসঙ্গতি, জাল ভোট ও সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির। রোববার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির দাবি করেন, ভোটগ্রহণ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে চললেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কমে যায়। ওই সুযোগে ভাড়াটে লোক দিয়ে ব্যাপকভাবে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য মতে, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে এবং দলীয় পছন্দমতো প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে ‘সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও কারচুপি সংঘটিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো থানায় বা আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি নির্বাচনে সংঘটিত অভিযোগিত জুলুম, অনিয়ম ও অত্যাচারের বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহেল, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি মুফতি শিহাব উদ্দিন, নেজাম ইসলাম পার্টির সহ-সভাপতি মাওলানা মো. ঈসা, এনসিপি হাটহাজারীর যুগ্ম সমন্বয়ক কেআই সাগরসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ আসনের ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫৮৯ ভোট।