গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশকে সুশৃঙ্খল ও মনোযোগী রাখতে কঠোর অবস্থানে গেল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান চলাকালীন সময়ে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে—জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষক ক্লাস চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত থাকছেন। এতে শিক্ষাদানের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে এবং শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউটিউব বা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে আসক্তি শুধু সময় নষ্টই করছে না, বরং শিশুদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় কনটেন্টের প্রবেশ ঘটাচ্ছে। শিক্ষক যখন নিজেই মোবাইল স্ক্রিনে ব্যস্ত থাকেন, তখন শ্রেণিকক্ষে শেখার পরিবেশও ভেঙে পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—শিক্ষকরা পাঠদানকালে কোনোভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে পাঠের প্রয়োজনে অনুমোদিত ডিজিটাল কনটেন্ট, মাল্টিমিডিয়া বা শিক্ষা–সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। একাধিক অভিভাবক জানান, “শিক্ষকের হাতে মোবাইল দেখলে শিশুরাও সেটিকে স্বাভাবিক ভাবতে শেখে। নিষেধাজ্ঞা শিক্ষকদের পাশাপাশি শিশুদের জন্যও ইতিবাচক বার্তা দেবে।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিস ও প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকি করা হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তি শিক্ষা সহায়ক হতে পারে, তবে তা নিয়ন্ত্রণহীন হলে শৃঙ্খলার পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। প্রাথমিক স্তরে শিখনের মূল চাবিকাঠি হলো শিক্ষক-শিক্ষার্থী আন্তরিক যোগাযোগ—যা মোবাইল স্ক্রিনের আড়ালে হারিয়ে যায়।

শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রশাসনের এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।