ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের নির্বাচনী আসন বরিশাল-৫ (সদর-সিটি) থেকে সরে দাঁড়াল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল মঙ্গলবার তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে জামায়াতের প্রার্থীরা মাঠে থাকছেন। এর আগে দশ দলীয় জোটের শরিক এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভুইয়া (ফুয়াদ)কে সমর্থন জানিয়ে বরিশাল-৩ আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি দলটি।
জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
গত ১৮ জানুয়ারি ফয়জুল করীমের আসনে প্রার্থী না দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দলটির প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সৌজন্যতার খাতিরেই ফয়জুল করীমের আসনে প্রার্থী না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তখন জানানো হয়।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর মুয়াযযম হোসাইন হেলাল সাংবাদিকদের বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সৌজন্যতার জায়গা থেকে ফয়জুল করীমের আসনে আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি।
ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার আলোচনা চলছিল। জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল প্রায় এক বছর ধরে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেই জোটে যোগ দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সব মিলিয়ে জোটের শরিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১-এ। তবে আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত জোটে না গিয়ে আলাদা নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামী আন্দোলন। সেই প্রেক্ষিতেই সৌজন্যতার বার্তা হিসেবে ফয়জুল করীমের একটি আসনে প্রার্থী না রাখার পথে হাঁটল জামায়াতে ইসলামী।