মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : ১২ ফেব্রুযারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি প্রার্থীদের অবস্বরনীয় বিজয় অর্জিত হয়েছে। এই নির্বাচনে রংপুরে বিএনপির ভরাডুবি ঘটেছে আর এক সময়ে দূর্গ বলে ক্ষ্যত জাতীয় পার্টির চরম বিপর্যয় ঘটিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের আকাশচুম্বী দম্ভ জামানত হারিয়ে চূর্ণ হয়েছে।

এসব আসনে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট প্রার্থীরা তাদের গ্রহণযোগ্যতায় আপামর ধর্ম বর্ণ তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের ভোটারদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিজয় অর্জন করে এবারে নির্বাচনী ডামাডোলে ভিন্ন মাত্রার চমক দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার, নতুন প্রজন্মের এবং ভিন্ন দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া ভোটারগণ এবার দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজ মুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে ১১ দলীয় জামায়াত জোটের প্রতি আস্থা রেখেছেন। এই জোটের প্রার্থীরাই নির্বাচনে ভোটারদের আশার আলো, আস্থার প্রতিক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ৬টি আসনে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি, এবি পার্টি, সিপিবি, বাসদ স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করেছেন।

এক সময়ের জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরে দলটির সেই সোনালী দিনের আকাশে কালো মেঘের ভেলা জমেছে। জাতীয় রাজনীতির ঋতুচক্রে জাপার নেতাদের দেশের উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভাজন, নানান ডিগবাজি, নেতৃত্বের কোন্দল, দলের নেতাদের বহিস্কার, পাল্টা বহিস্কার, শীর্ষ নেতৃত্বের অদুরদর্শী কর্মসুচী, ফ্যসিস্ট আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি, ভারতের দালালী সব মিলিয়ে অনেক আগেই জাতীয় পার্টির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল এই অঞ্চলের মানুষ। বিগত ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর নির্মম পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখানে নির্বাচনে অংশ নিলেও দলের নেতাকর্মী এবং জনগণের সেখানে কোন আন্তরিক সাড়া ছিল না। জনগণের নিরুত্তাপ আলিঙ্গনে ভোট কেন্দ্রগুলো পর্যন্ত ছিল প্রায় ভোটার শূন্য। ভোট কেন্দ্রগুলোতে কেবল শোভা বর্ধন করেছিল নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সদস্য, গবাদিপশু আর সারমেয়দের দল। সে সময় অবস্থা বেগতিক দেখে জাপার মিত্র ক্ষমতাসীন ফ্যসিস্ট আওয়ামী লীগের গৃহপালিত কর্তব্যরত আমলারা ভোটারের উপস্থিতির দিকে না তাকিয়ে কেবল ভোটের অংক বসিয়ে রাজনৈতিক স্যালাইন দিয়ে জাতীয় পাটিকে ঐসব নির্বাচনে বাঁচিয়ে রেখেছিল। এ অবস্থায় কালের বির্বতনে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনায় জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুর অঞ্চলের জনমনে জাপার ভালোবাসায় ধু ধু বালুচরের বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের এমন নির্মম বার্তার আভাস জানিয়ে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সূচনায় দৈনিক সংগ্রামে তথ্য নির্ভর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। সময়ের অনিবার্য সন্ধিক্ষণে সে বার্তা সকালের সোণালী সূর্যদয়ের মত সত্যে পরিণত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে রংপুরে ৬টি আসনেই স্বয়ং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় বিশাল ব্যবধানে দূরে থেকে তৃতীয় অবস্থানে চলে গেছে। কোন কোন প্রার্থী নিজেদের জামানত পর্যন্ত হারিয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোন বাংলাদেশ-এর সকল প্রার্থীসহ অন্যান্য ছোটদল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের জামানত হারিয়েছেন।

রংপুরের ৬টি নির্বাচনী আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৯২ হাজার ৮৩৮ জন এবং পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার সংখ্যা ছিল এবারে ১৩ লাখ ৬ হাজার ৩৩৩ জনবেশী। এখানে মোট ভোট কেন্দ্র ৮৭৩টি। রংপুরে স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন দলের ৪৫ জন প্রার্থী এবারে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন।

এবারে রংপুরের ৬টি নির্বাচনী আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট প্রার্থীরা মোট ভোট পেয়েছেন ৯ লাখ ৭ হাজার ৩৭০ ভোট। বিএনপির প্রার্থীরা পেয়েছেন ৬ লাখ ৮ হাজার ৫৫০ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রাথীরা পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬১ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা পেয়েছেন মোট ২৮,৬৪৪ ভোট।

রংপুর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৯ নং ওয়ার্ড) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক মাওলানা রায়হান সিরাজী দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির ধানেরশীষের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন সুজন পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু পেয়েছেন ৫ হাজার ২২৪ ভোট। এছাড়া বাসদ র্মাকসবাদীর প্রার্থী আনিছুল আরেফিন কাঁচি প্রতিকে পেয়েছে ৪৪১ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ আনাস চেয়ার প্রতিকে ১ হাজার ১০৩ ভোট পেয়েছেন। এখানে জাতীয় পার্টির প্রাথী ব্যারিষ্টার মঞ্জুম আলীর দ্বৈত নাগরিকের কারনে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জন। এর মধ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলায় ২ লাখ ৫১ হাজার ২ জন এবং সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৯ নং ওয়ার্ডের ভোটার ১ লাখ ২৪ হাজার ২২৫ জন। এখানে ১৩৯ টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৭ টি। ভোটের হার ৬০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

রংপুর -২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের অন্যতম কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর জীবন্ত শহীদ মজলুম জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার ধানেরশীষ প্রতিকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক এমপি আনিছুল ইসলাম মন্ডল লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আশরাফ আলী হাতপাখা প্রতিকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৫৮ ভোট।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মজলুম জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম দীর্ঘ দেড় দশক মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়ে জালিম শাহীর কারাগারে চরম নিপিড়িত হয়ে গত বছর মুক্তি পেয়েছেন। বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার মানুষ এবারে এই মজলুম মানুষটির দিকে ভালবাসা এবং স্বপ্নপুরনের আকাংখা নিয়ে উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে ছিলেন। আমজনতা দীর্ঘ প্রহর গুনে তাঁকে বিজয় মালা পড়িয়েছেন ১২ই ফেব্রুয়ারী।

এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে বদরগঞ্জ উপজেলায় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৫৩ জন এবং তারাগঞ্জ উপজেলায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৬৮ জন। এর মধ্যে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৮৩৯। ভোটের হার ৬৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

রংপুর-৩ (রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৯ থেকে ৩৩ নং ওর্য়াড এবং রংপুর সদর ) আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবার রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী দলের মহানগর আহবায়ক সামসুজ্জামান সামু ধানেরশীষ প্রতিকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলীয় প্রধান গোলাম মোহাম্মদ কাদের লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মুহাম্মদ আমিরুজ্জামান পিয়াল পেয়েছেন ৮ হাজার ৬৩৮ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মরহুম সিনিয়র মন্ত্রী মশিায়ার রহমান যাদু মিয়ার কন্য বিএনপি নেত্রী রিটা রহমান সুর্যমুখী ফুল প্রতিকে ৪৬১ ভোট, বাংলাদেশের সমাজতান্তিক দলের (মার্কসবাদী) আনোয়ার হোসেন বাবলু কাঁচি প্রতিকে ৪৬১ ভোট, বাসদের আব্দুল কুদ্দুস মই প্রতিকে৪৯৫ ভোট এবং তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী নির্বাচনের ২ দিন পুর্বে নিজেকে প্রত্যাহার করলেও হরিণ প্রতিকে পেয়েছেন ২৩০ ভোট।

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৪ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৯০ জন। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের ১০ থেকে ৩৩ নং ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫৯ জন এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় মোট ভোটার। এখানে ১৬৯ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৫ ভোট। ভোটের হার ৬৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

রংপুর-৪ (কাউনিয়া ও পীরগাছা) আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। এর মধ্যে জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের এনসিপি’র হ্যাভিওয়েট প্রার্থী তরুন প্রজন্মের আইকন জুলাই যোদ্ধা এবং দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন শাপলাকলি প্রতিকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী রংপুর জেলা কমিটির সদস্য ও উপজেলা সভাপতি ইমদাদুল হক ভরসা ধানেরশীষ প্রতিকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মোহাম্মদ মাহবুবার রহমান লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মাদ জাহিদ হাসান পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৩৭ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী আবু সাহমা রিক্সা প্রতিকে ৩৪১, বাসদ এর প্রার্থী প্রগতী বর্ম্মন তমা কাঁচি প্রতিকে ২৪৩ ভোট পেয়েছেন। জাপার (আনিস-রুহুল) আব্দুস সালাম। বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জল চন্দ্র রায় ডাব প্রতিকে ৫৪৩ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ্ আলম বাসার হরিণ প্রতিকে ১২৬ ভোট পেয়েছেন। এখনে সকল দলের সাম্ভব্য প্রার্থীরা বিরামহীন প্রচারনা চালিয়ে ভোটারদের মনোযোগ আর্কষনের চেষ্টা করেছেন। এনসিপি’র হ্যাভিওয়েট প্রার্থী তরুন প্রজন্মের আইকন জুলাই যোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেনকে এই আসনে জামায়াতে ইসলামী পূর্ন সর্মথন জানিয়ে আসনটি তাঁকে ছেড়ে দেয়ায় হিসেব নিকেশ পাণ্টে গেছে ভোটারদের।

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন। এর মধ্যে পীরগাছা উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫৪ জন। এছাড়া কাউনিয়া উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৫২ জন। এখানে ১৬৩ কেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৩১৪ টি। ভোটের হার ৬৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের রংপুর জেলা আমির সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজলুম জননেতা অধ্যাপক গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম বিএনপির প্রার্থী উপজেলা সভাপতি গোলাম রব্বানী ধানেরশীীষ প্রতিকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যাপক গোলজার হোসেন হাতপাখা প্রতিকে পেয়েছেন ২ হাজার ৩৯৪ ভোট। আমার বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী আব্দুল বাছেত মারজান ঈগল প্রতিকে ৩৫৩ ভোট, নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মোফাখ্খারুল ইসলাম নবাব কেটলী প্রতিকে ৮৬ ভোট, সিপিবির প্রার্থী আবু হেলাল কাস্তে প্রতিকে ৪৯৫ ভোট, বাসদের প্রার্থী মমিনুল উসলাম কাঁচি প্রতিকে ৩৫২ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার মুকিত আল মাহমুদ ফুটবল প্রতিকে ২৫৭ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে তরুন প্রজন্ম সহ মিঠাপুকুরবাসী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মজলুম জননেতা অধ্যাপক গোলাম রব্বানীকে বিজয়ের মালা পরিয়ে দিয়েছেন কাংখিত ভাবেই। এই আসনে মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন। কেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৮৯ টি। ভোটের হার ৬৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের জেলা মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপি’র প্রার্থী রংপুর জেলা আহবায়ক সাইফুল ইসলাম ধানেরশীষ প্রতিকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরে আলম যাদু লাঙ্গল প্রতিকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী সুলতান মাহমুদ হাতপাখা প্রতিকে পেয়েছেন ২ হাজার ৯৩ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। আমার বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ ছাদেকুল ইসলাম ঈগল প্রতিকে ২১৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ ১৬০ ভোট, খন্দকার শহিদুল ইসলাম ২৩২ ভোট এবং তাকিয়া জাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১৫৩ ভোট।

এই আসনে পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৫ জন। এখানে ১১৩ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪২৭। ভোটের হার ৬৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।