ফেনী সংবাদদাতা : গতকাল রোববার ভোরে ফেনীর জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে মুখে মাস্ক পরা দুর্বৃত্তরা। নিজাম হাজারী ফেনীর সন্ত্রাসের গডফাদার হিসেবে পরিচিত। স্বদলীয় একরামকে চেয়ারম্যানকে পুড়িয়ে হত্যা করার নির্দেশদাতা এই লোক। ফেনী থেকে উন্নয়নের নামে লুটপাট করে কয়েক হাজার কোটি টাকা কামিয়েছে। নিজাম হাজারীর বাগানবাড়ি অনেকের দখলকৃত জায়গার উপর নির্মিত। হিন্দুদের জায়গার উপর নির্মিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এমন রকম অসংখ্য উদাহরণ আছে। নিজাম হাজারীর অধীনস্থ ফেনীর সকল উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা একেকজন এখন কোটি টাকার মালিক বনে গিয়েছে। একেকজন ছিল একেক ইউনিয়নের গডফাদার। বিএনপি, জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের হাতে নির্যাতন ছিল নিয়মিত বিষয়।
এ সকল গডফাদাররাই ৪ আগস্ট মহিপালে নিরীহ ছাত্র জনতাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে। সাথে ছিল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী। সরাসরি নিজাম হাজারী ও শুসেনের নির্দেশে এ হত্যাকান্ড চালিয়েছে। বিশেষ করে ফেনী সদরের প্রতিটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এ হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। ৫ আগস্ট না পালালে যারা আন্দোলনে ছিল তাদের বাড়িঘর ভাংচুরের পরিকল্পনাও ছিল তাদের। এ হত্যাকান্ড নিয়ে অনুশোচনা তো দূরে থাক, বরং নিজাম হাজারী তাদের অনলাইন এক বক্তৃতায় বলেছিল, ‘মহিপাল ছাত্ররা নিজেদের নিজেরা হত্যা করে তাদের নামে হত্যা মামলা দিয়েছে।’
যে নিজাম হাজারী ৫ আগস্টের পূর্বে বলতো, ফেনীকে অশান্ত করতে দেওয়া হবে না,সে নিজাম হাজারীরা বিদেশে পালিয়ে থেকে টাকার বিনিময়ে লোক ভাড়া করে ফেনীকে অশান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। নিজাম হাজারী হয়তো ভুলে গেছে, নিজাম হাজারী যত যাই কিছু করুক,ফেনীর রাজনীতিতে নিজাম হাজারীর অধ্যায় শেষ। ইতিহাসে জয়নাল হাজারীর মত নিজাম হাজারী সন্ত্রাসের গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। জয়নাল হাজারীর তো তাও ভালো বিদায় হয়েছে, নিজাম হাজারীর জন্য হয়তো সেটাও নেই। ইতিহাস কাওকে ক্ষমা করে না।