পুঠিয়া (রাজশাহী) সংবাদদাতা: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল কচুরিপানা ভরে যাওয়ায় মৎস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে এসব জলাশয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কচুরিপানা বেড়ে যাওয়ার ফলে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সাধারণ জেলেরা।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, কচুরিপানা এতটাই ঘন হয়ে যায় যে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলা সম্ভব হয় না, সূর্যের আলো ঠিকমত পানিতে না পৌছার কারণে পানি প্রচন্ড ঠান্ডা থাকায় মাছের অক্সিজেনের ঘাটতি থাকার কারণে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয় না এবং নানান রোগবালাইয়ে অনেক মাছ মরে যায়। সরজমিনে দেখা যায়, পুঠিয়া উপজেলার সবচেয়ে বড় নারোদ নদ যা চারঘাট এবং পুঠিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শাখা খাল-বিল এলাকা জুড়ে ঘন কচুরিপানায় ভরে গেছে। উল্লেখ্য, গত ২০১৯ সালে এই নারোদ নদীকে মুক্ত করাতে রাজশাহী পদ্মা নদীর সাথে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে খনন কাজ হয়, যা কেবল বানেশ্বর ইউনিয়ন পর্যন্ত খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে বাকি বেলপুকুর হয়ে পদ্মা নদী পর্যন্ত জমি সংক্রান্ত জটিলতায় অসমাপ্ত রয়েছে। যার কারণে নারোদ নদীর পানি প্রবাহমান না হওয়ায় এই সমস্ত কচুরিপানায় জরাজীর্ণ অবস্থা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মজিবার বলেন, “আমরা আগে এই খাল-বিলে অনেক মাছ ধরেছি। এখন কচুরিপানার (স্থানীয় ভাষায় ‘বাতরাজ’) এর প্রভাবে আর মাছ ধরতে পারি না।” এলাকাবাসী মনে করেন, এই খাল-বিলের স্বাভাবিক পানি প্রবাহের ব্যবস্থা না থাকলে কচুরিপানা দ্রুত ছড়িয়ে পরিবেশের জন্য আরো হুমকি হতে পারে। উপজেলার বানেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক দুলাল বলেন, “কচুরিপানা নিষ্কাশনের জন্য আমাদের কোনো বরাদ্দ নেই। স্থানীয় জনগণের আশা, নারোদ নদীর খনন কাজ সম্পন্ন করে পানি প্রবাহের সুব্যবস্থা হলে কচুরিপানা নিষ্কাশনের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে।”