বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, দেশের রাজনীতি ও সমাজকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও কালো টাকার দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করতে হলে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটই হবে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ।

তিনি শুক্রবার বাদে মাগরিব চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণসংযোগ সপ্তাহ উপলক্ষে বাকলিয়া ১৯ নম্বর চাকতাই নতুন মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত গণসংযোগ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ দেশের মানুষ জুলুম, অবিচার, দুঃশাসন ও লুটপাটের রাজনীতির শিকার। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে এবং কালো টাকা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে জনগণকে সচেতনভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো ক্ষমতার রাজনীতি করেনি; বরং মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ একটি নৈতিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারবে। তিনি সকল নেতাকর্মীকে ঘরে ঘরে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরার আহ্বান জানান।

বাকলিয়া থানা জামায়াতের আমীর সুলতান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ গণসংযোগ কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান। তারা বলেন, গণসংযোগ সপ্তাহের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গণসংযোগ কর্মসূচিতে জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন এবং লিফলেট বিতরণ, পথসভা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন।

অর্থ উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন দাখিল ২১ জানুয়ারি

সরকারি কর্মচারীদের সর্বনি¤œ বেতন ১৮ হাজার সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ

হ স্টাফ রিপোর্টার

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে এই কাঠামো। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের সর্বনি¤œ বেতন ৮,২৫০ টাকা, যা নতুন প্রস্তাবে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে প্রায় ১৮,০০০ টাকা বা তার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ বেতন বাড়িয়ে ৭৮,০০০ টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার উপরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বেতন কাঠামোর সর্বোচ্চ ও সর্বনি¤œ বেতনের অনুপাত হবে ১:৮।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর জন্য চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে ধরা হচ্ছে।

গত বছরের জুলাই মাসে গঠিত ২১ সদস্যের বেতন কমিশন সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। এখন সেই প্রতিবেদন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি, এরপর উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নতুন বেতন কাঠামো শুধু বেতন বাড়ানোর বিষয় নয়, এটি সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ লাঘবের বড় প্রত্যাশা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নি¤œস্তরের কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের জীবনযাত্রার খরচ সামলানো সহজ হয়।