শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজীরহাট নৌ-রুট দিয়ে প্রায় দুই লাখ ঘরমুখো যাত্রী পারাপার হবেন বলে ধারণা করছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে মানিকগঞ্জ প্রান্তে পাটুরিয়ায় চারটি ও রাজবাড়ী প্রান্তের দৌলতদিয়ায় তিনটি ঘাট প্রস্তুত করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতের এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ঈদ উপলক্ষে নির্বিঘেœ যাত্রী পারাপারে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহন ১৭টি ফেরি এবং আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে ৫টি ফেরি দিয়ে পারাপার করা হবে। স্বাভাবিক সময়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন পারাপার করা হয়। ঈদের সময় আগের তিন দিন জরুরি পণ্য ছাড়া সাধারণ ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হয়। এরপরও দিনে বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলসহ তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার যাত্রীবাহী বাহন পারাপার হয়।
অন্যদিকে, আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ বাস, ট্রাক ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন পারাপার হয়। কিন্তু ঈদের সময় গড়ে প্রতিদিন বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলসহ প্রায় ১ হাজার দুইশ থেকে ১ হাজার তিনশ যানবাহন পারাপার হয়।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে এবার ২২টি লঞ্চ দিয়ে এবং আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে ১২টি লঞ্চ দিয়ে ‘লুজ’ যাত্রী বা কাটা লাইনের বাসের যাত্রী পারাপার করা হবে। আরিচা বিআইডব্লিউটিএ অফিস সূত্রে জানা যায়, পদ্মা-যমুনা নদীর স্রোতের কারণে গত বর্ষা মৌসুমে পাটুরিয়ার ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট নদীতে বিলীন হয়ে গেলেও ডাইভারশন করে ঠিক করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে পাটুরিয়ায় চারটি ও দৌলতদিয়ায় তিনটি ঘাট প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে নির্বিঘেœ ফেরি ও লঞ্চে যাত্রী এবং যানবাহন লোড-আনলোড করা যাবে। ঈদের সময় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে দেড় লাখ এবং আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে ৫০ হাজার মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ যাত্রী পারাপার হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসির নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, ঈদ উপলক্ষে পাটুরিয়ায় চারটি ও দৌলতদিয়ায় তিনটি ফেরিঘাট এবং পাটুরিয়ার লঞ্চঘাট মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। ঘাটের কোনো সমস্যা নেই।
আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম আব্দুছ ছালাম বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ৯টি রোরো বড় ফেরি ও ৮টি ইউটিলিটি ছোট ফেরি এবং আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে চারটি রোরো বড় ফেরি এবং একটি ইউটিলিটি ছোট ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হবে। যাত্রীদের ঘাটে এসে দুর্ভোগ পোহানোর কোনো আশঙ্কা নেই। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা নির্বিঘেœ নদী পারাপার হতে পারবেন।
ঘাটকেন্দ্রিক যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের গন্তব্যে নির্বিঘেœ পৌঁছানোর লক্ষ্যে র্যাব, পুলিশ, ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন নিয়োজিত থাকবেন। ঘাটে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগের কোনো আশঙ্কা নেই।