সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার গরিবের সরকার। অস্বচ্ছল ও সমাজে নিগৃহীত মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছে। আগামী অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এবার ঈদের আগে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ সুবিধাভোগীর মাঝে তাদের ভাতার অর্থ প্রেরণ করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অন্তর্র্বতী কমিটির সদস্যসচিব জাহিদুল করিম কচি।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা হলেন সমাজের দর্পন। সাংবাদিকদের সাথে সরাসরি জনসম্পৃক্ততা রয়েছে। আপনাদের থেকে শোনার পর আমাদের কর্মকাণ্ডে কোনো ভুল থাকতে তা শোধরাতে পারবো। আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। সততা এবং নিষ্ঠার সাথে চলতে চাইলে কম আয় করেও ভালোভাবে চলা যায়। কাজের ক্ষেত্রে সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা দরকার। চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে চট্টগ্রামের প্রতি আমার দরদ একটু বেশি। চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা অনেক যোগ্য। দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের ভূমিকা লক্ষ্যণীয়। ভবিষ্যতে সমাজসেবা অধিদপ্তর সাংবাদিকদের কল্যাণেও কাজ করবে। বর্তমান সরকার বিভিন্ন পেশাজীবীদের মধ্যে বৈষম্য কমাতে কাজ করে যাচ্ছে।

দ্রব্যমূলের প্রসঙ্গ টেনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, সম্প্রতি রমজানের সময় সরকার যেভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন তা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। ঈদের সময় ঘরমুখী মানুষ ট্রাফিক জ্যাম ছাড়াই নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পেরেছে। সদিচ্ছা ও সৎ চিন্তা-ভাবনা থাকলে মানুষের কল্যাণ করা সম্ভব। অতীতকে ভুলে গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ এই দেশ আমার-আপনার সকলের। দেশপ্রেমের ব্রত নিয়ে কাজ করলে অবশ্যই দেশ এগিয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রেস ক্লাবের সদস্যসচিব জাহিদুল করিম কচি বলেন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের আহবায়ক ফরিদা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এগিয়ে চলেছে। গত ছয় মাসের কর্মকান্ড শীঘ্রই আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হওয়ায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। একইসঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য শাহনেওয়াজ রিটনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) নুরুল্লাহ নুরী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক কাজী নাজিমুল ইসলাম, উপপরিচালক মো, ফরিদুল আলম, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব অন্তর্র্বতী কমিটির সদস্য মুস্তফা নঈম, গোলাম মাওলা মুরাদ, হাসান মুকুল, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মজুমদার নাজিমউদ্দিন, সোহাগ কুমার বিশ্বাস, কিরণ শর্মা, আবু বকর, মাহবুবুল মাওলা রিপন, আলমগীর নূর, এনাম হায়দার, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, ফারুক মুনির, রূপালী বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক সায়েম ফারুকী, নওশীন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।