মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুরে উদযাপিত হয়েছে।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে রাত ১২.০১ মিনিটে ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন নেতৃত্বে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ডীন, বিভাগীয় প্রধান ও পরিচালকবৃন্দ। প্রভোস্ট, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দও পর্যায়ক্রমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি স্মরণ করেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগ ও তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, ‘শহীদদের ত্যাগের মাধ্যমে মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ফলশ্রুতিতে আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদদের আদর্শ বুকে ধারণ করে আমরা ডুয়েটকে বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব। শহীদদের আত্মত্যাগে উজ্জীবিত হয়ে সকলকে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতির জন্য কার্যকর শিক্ষা, টেকসই গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক মো. আরেফিন কাওসার মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘শহিদদের স্মৃতি অম্লান রেখে তাঁদের স্বপ্নের দেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।’ তিনি ভাষা চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে বাংলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে সূর্যোদয় থেকে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এছাড়া কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা এবং ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুলের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।