দেশের উঁচু উঁচু ভবন, সেতু আর কলকারখানার প্রতিটি ইটের সঙ্গে মিশে আছে ইমারত নির্মাণ শ্রমিকদের রক্ত-ঘাম ও জীবনের গল্প। অথচ এই শ্রমিকরাই আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার। সেই অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করতেই খালিশপুরে অনুষ্ঠিত হলো এক আবেগঘন মতবিনিময় সভা। নগরীর খালিশপুর থানা ইমারত শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. ইং-২৫২০)-এর উদ্যোগে খালিশপুর বিআইডিসি শ্রমিক কল্যাণ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগর আমীর ও খুলনা-৩ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, “আপনাদের হাতেই দাঁড়িয়ে আছে দেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই হাতগুলোকেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করা হয়। দুর্ঘটনায় মারা গেলে খবর হয়, বেঁচে থাকলে খোঁজ নেওয়ার কেউ থাকে না এই বাস্তবতা আর চলতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, শ্রমিক মানে শুধু মজুর নয় শ্রমিক মানে সম্মান, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা। শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি দেয়ার যে শিক্ষা ইসলাম দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শোষণ বন্ধ হবে না।
ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদুর রহমান সভাপতিত্বে বিশেষ অতিতি ছিলেন মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ইকবাল হোসেন, মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি মো. জাহিদুল ইসলাম, বুলবুল কবির, সিদ্দিকুর রহমান, নাসির উদ্দিন, বদরুর রশিদ মিন্টু, হাফেজ নাসরুল্লাহ, মুজাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, তাজ মোহাম্মদ, সোহরাব হোসেন, মাসুদ রানা, বেবি জামান, আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ। এ সময় খালিশপুর অঞ্চলের অসংখ্য ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় একের পর এক শ্রমিক উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, তাদের জীবনের বাস্তবতা, কখনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া উঁচু ভবনে কাজ, কখনো দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসার টাকা জোগাড়ের লড়াই, আবার কখনো কাজ হারিয়ে পরিবার নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। এক শ্রমিক আবেগে বলেন, “আমরা মরলে কাগজে নাম ওঠে, বাঁচলে কেউ খোঁজ নেয় না।”