বগুড়া অফিস : বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মো. মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে নাটোরের সিংড়া আমলী আদালতে অন্যের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার ডিগ্রি পাসের সনদ জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্যাচেলর অফ সোশ্যাল সায়েন্সের (বিএসএস) সনদ জালিয়াতি করে ভুয়া সনদ তৈরি ও ব্যবহারের মাধ্যমে কাহালু উপজেলার আজিজুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সভাপতি হওয়ায় এই মামলা করা হয়। সনদের প্রকৃত মালিক দাবিদার নাটোরের সিংড়া উপজেলার মো. মাসুদ আলী বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক সারোয়ার জাহান বৃহস্পতিবার বিকেলে (২৭ ফেব্রুয়ারি) মামলাটি আমলে নিয়ে নাটোরের পিবিআই পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাদি পক্ষের আইনজীবী মো. মাসুদ রানা। শুক্রবার নাটোর জেলা পিবিআই পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেছেন, এখনো আদালতের নির্দেশনার কপি হাতে পাইনি। কপি পেলে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
মামলা সূত্রে সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের সিংড়ার থাওইল গ্রামের মো. মাসুদ আলী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুরের আওতাধীন নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন কলেজের ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে বিএসএস এর ছাত্র ছিলেন। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২১২৪৯৩ ও পরীক্ষার রোল ১৩৬৮৬৯। সে বছর মাসুদ আলী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের করে অকৃতকার্য হলে পরে আর কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। বিবাদী মোশারফ হোসেন চতুরতার মাধ্যমে বাদির রেজিস্ট্রশন নম্বর ব্যবহার করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুরে ১৯৯৩-৯৪ সেশনে বিএসএসে দ্বিতীয় শ্রেণিতে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পাস দেখিয়ে (পাসের সন ১৯৯৯) জাল সনদ সংগ্রহ করেছেন। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বরে সেই সনদ দেখিয়ে বগুড়ার কাহালু উপজেলার আজিজুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানে সাবেক সভাপতি আসামীর সেই সনদ চ্যালেঞ্জ করলে দেখা যায় অভিযুক্ত সাবেক এমপি বাদির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও সেশন ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে ১৯৯৯ সালে বিএসএস পাস সনদ তৈরি করেছেন। এ ছাড়া সনদ গ্রহনের শিটে মাসুদ আলীর নাম কেটে মোশারফ লেখা হয়েছে। বাদী ২০২৫ সালের ২০ আগষ্ট আসামীকে বিষয়টি অবহিত করেন।
মামলার বাদি মাসুদ আলী আশঙ্কা করছেন, বিবাদী বা আসামী তার (বাদির) রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে বড় ধরণের কোনো কর্মকান্ড ঘটাতে পারে যাতে বাদির চরম ও অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা থেকে তিনি এই মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরো বলেছেন আমি কৃষক মানুষ। আমার সেশন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর জালিয়াতি করে উনি জাল সনদ তৈরি করেছেন, তাই আমি মামলা করেছি।