নেতাকর্মী শূন্য নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় মাঝে মধ্যে বিরতি দিয়ে বন্ধ থাকলেও দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে সরব থাকতো নয়াপল্টনের এই কার্যালয়। কিন্তু সরকার গঠনের আগে থেকেই অনেকটা নীরব হয়ে যায় একসময়কার সরব বিএনপির এই কেন্দ্রীয় কার্যালয়। কোনো নেতা নেই, নেই কর্মী-সমর্থক। অফিসে অলস সময় কাটাচ্ছে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারি।

গতকাল রোববার সকাল ১১টায় এবং দুপুর আড়াইটায় দুই দফা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। তারেক রহমান দেশে আসার পর থেকেই অনেকটা নীরব হয়ে যায় নয়াপল্টনের এই অফিস।

নারায়নগঞ্জ থেকে আসা বিএনপি কর্মী জহির হোসেন বলেন, এসেছিলাম পার্টি অফিসে, কেউ নেই। তিনতলায় গিয়ে দেখলাম সব ফাঁকা, খা খান করেছে। দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। এখনই যদি দলের এই দশা হয়, নেতারা যদি নয়া পল্টনের অফিসের ঠিকানা ভুলে যান, তাহলে আমরা যাবো কোথায়?

বিএনপির অফিস কর্মীদের আলাপ করে জানা গেলো, বিএনপি অফিসে এখন নেতারা আসেন না। আগে এমন দেখা গেছে যে, সকাল বলেন, বিকাল বলেন, সন্ধ্যা বলেন, একাধিক নেতা থাকতেন।

বিএনপির অফিসের এক কর্মকর্তা জানালেন, দফতরের দায়িত্বে থাকা দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অসুস্থ সেইজন্য অফিস আসছেন না। আর সরকার গঠনের পর নেতারা যেমন আসছেন না, কর্মীরাও আসছেন কম। আমরা বলতে পারেন একরকম এতিম হয়ে গেছি। তবে আজ সোমবার মহাসচিব আসার কথা রয়েছে।

আরেকজন অফিস কর্মী বলেন, নেতারা আসেন না বলে এখন আর কেটলিতে গরম পানির চিন্তা করতে হয় না। চা দেয়ারও আর ডাক পড়ে না। গত দুই দিন রমযান চলছে, আমরা সবাই রোজাদার। এর আগে কমবেশি ‘চা নিয়ে আসো’ এমন ডাক পড়তো।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা জানালেন, গত ১৭ তারিখ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সেদিন নেতারা না আসলেও অনেক কর্মীরা এসেছিলেন। এরপর অফিসে তেমন কেউ এখন পর্যন্ত আসেননি।

রিক্সা চালক বিএনপি সমর্থক মিরাজ বলেন, আমি শাহজাহানপুর কলোনিতে থাকি। প্রতিদিন বিএনপি অফিসের কাছ দিয়ে যাই। গত ১৬/১৭ বছর দেখেছি এই অফিসে নেতা-কর্মীদের ভিড় আছেই। নেতাদের গাড়িও দেখা গেছে পার্টি অফিসের সামনে। কিন্তু গত কয়েকদিন যাবৎ দেখছি যে, বিএনপি অফিসের কর্মী সেভাবে খুঁজে পাওযা যায়নি।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ প্রতিবেদককে বলেন, অন্যবার র্নিবাচন নিয়ে সরব থাকতো কেন্দ্রীয কার্যালয়। এবার গুলশানে সব আয়োজন ছিল্ যার কারণে নেতাদের আসা যাওয়া সেভাবে হয়নি। যেহেতু সরকার গঠন হয়ে গেছে, এখন আবার সরব হবে কেন্দ্রীয় কার্যালয়। পার্টিল চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মাঝে মধ্যে অফিস করবেন। নেতাকর্মীদের পদচারণায় আাবরো মুখরিত হয়ে হবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়।