বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যদি জনরায় অমান্য করা হয় তাহলে ওদেরকে ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে। তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদীর বিচার শেষ করতে হবে। জুলাই আন্দোলনের হত্যাকা-ের বিচার করতে হবে। নতুন রাষ্ট্র গঠনের সনদ মেনে নিতে হবে। একচুল পরিবর্তন জনগণ মেনে নিবেনা। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু সংসদ নির্বাচন হয়নি, গণভোটও হয়েছে। জুলাই সনদে না ভোট ও ধানের শীষ এর ভোট সমান হয়েছে অনেক কেন্দ্রে। তারা না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। নির্বাচনের পর পেইড বুদ্ধিজীবীরা বলছে সরকার মানতে বাধ্য নয়।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোন টালবাহানা চলবেনা। আগামীর বাংলাদেশ চলবে জুলাই সনদের ভিত্তিতে। জনগণ স্বৈরাচার তাড়াতে পেরেছে সুতরাং সবাইকে সেটা মনে রাখতে হবে তিনি বলেন, কে ভোট দিলো আর কে দিলো না-সেটি নিয়ে বিভাজন নয়, আমাদের প্রত্যাশা, সবাই আমাদেরই মানুষ। নির্বাচনের পর এখন আর বিভেদ নয়, বরং উন্নয়নই হোক মূল লক্ষ্য। খুলনার সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান তিনি। নগরীর বৈকালি মোড়স্থ জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে খুলনা-৩ আসনের নির্বাচন পরবর্তী ১৫ নং ওয়ার্ড জামায়াতের কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

১৫নং ওয়ার্ড আমীর হিমেল হোসেন এর পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, খালিশপুর থানা আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাফেজ ইমামুল ইসলাম, ১৫ নম্বর কাউন্সিলর প্রার্থী মো. সাজ্জাদ হোসেন, কবির হোসেন, ফ্জলুল হক, মাসুম বিল্লাহ, বাবুল হোসেন, ফয়সাল, সাইফুল প্রমুখ।

মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, আমরা আশা করেছিলাম জনগণ ব্যালটের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু জনগণের সাথে নির্মম তামাশা করা হয়েছে। সারাদিন শান্তিপূর্ণ ভোটের পর টার্গেটকৃত প্রার্থীদের সংসদে যাওয়া ঠেকাতে ডিপস্টেট ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের পর সারাদেশে পৈশাচিকতা হয়েছে। নারীদের ধর্ষণ, নিপীড়ন, বাড়িঘর জ্বালানোর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনগণ ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করবে। যারা ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করবে তারাই সে পথে দিল্লিতে পালাবে।