আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ডিভিশনের উদ্যোগে স্কলারশিপধারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ভিউ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ২০২৫’ গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। তিনি বলেন, স্কলারশিপ শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধ, নেতৃত্ব এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়ার এক শক্তিশালী প্রেরণা। তিনি আরও বলেন, জন্নাত লাভের জন্য আমাদের এক ধরনের প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে হবে। আল্লাহ আমাদের জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি আমাদের পরীক্ষা করতে পারেন। যে মানুষ আল্লাহর পথে চলার সংকল্প নেয়, সে প্রকৃতভাবে সৎ ও ভালো মানুষ। তাই আমাদের উচিত পৃথিবীতে নৈতিকতা এবং ভালো কর্মের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জন্নাত অর্জনের লক্ষ্য অর্জন করা।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসানুল্লাহ ভূঁইয়া এবং ফ্যাকাল্টি অব শরিয়াহ বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. মো. রাশিদ জাহেদ প্রমুখ।
‘দ্বীনি শিক্ষায় আলোকিত তরুণদের চিন্তার পরিশুদ্ধি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক দারসুল কুরআন পেশ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহমদ আলী। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি তরুণ সমাজ। এ কথা ইতিহাসে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। ইসলামের প্রথম যুগেও দেখা যায়, যারা ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি মহান সভ্যতার ভিত্তি রচনা করেছিলেন, তাদের বড় একটি অংশই ছিলেন যুবক। প্রায় সব নবীকেই নবুয়তের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল যৌবনে। কারণ, আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে সবচেয়ে প্রাণশক্তি ও কর্মশক্তিসম্পন্ন গোষ্ঠী হলো তরুণরা।
প্রফেসর ড. আহমদ আলী আরও বলেন, সমাজে যে শ্রেণিকে ‘সুশীল’ বলা হয়, তাদের অনেকেই কথা বলেন বেশি, কিন্তু কাজ করেন কম। নির্মাণের চেয়ে ভাঙতে তারা অধিক পারদর্শী। অনেক সুশীলই ভীরু, আপসকামী ও লোভ দ্বারা প্রভাবিত হন। আমাদের সমাজে এখনও কিছু ভুল ধারণা, কুসংস্কার, পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও গোড়ামি বিদ্যমান, যা চিন্তার বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। আর চিন্তার পরিশুদ্ধতা বলতে বোঝায় এসব অস্বাস্থ্যকর চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। তরুণদের মাঝে সেই পরিশুদ্ধ, সাহসী ও অগ্রগামী চিন্তাচেতনা জাগ্রত করতে পারলে একটি আদর্শ সমাজ গঠনের পথ আরও প্রশস্ত হবে।
আয়োজকরা জানান, স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আত্মোন্নয়ন, নেতৃত্ব ও মানসিক বিকাশে ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ‘যেমন খুশি তেমন উপস্থাপনা’ পর্বে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। বিচারকরা সেরা পাঁচজনকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন। প্রেস বজ্ঞিপ্তি।