মনিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা: ওসব সরকারি নিয়ম এখানে চলে না! যা ভাড়া চেয়েছি তাই দিলে যাবো। দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) সম্বন্বিত জেলা কার্যালয়ের সদস্যদের জানায় মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স চালক এখলাস। রোগী সেজে ছদ্মবেশে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া চান তারা। এছাড়া সকালের নাস্তায় বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম পাউরুটি দেওয়া হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের! পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুদ থাকলেও বাইরে থেকে কিনতে হয় রোগীদের। মানসম্মত মশুরি ডাল ( চিকন ১’শ৪০ টাকা কেজি দরে) সরবরাহের কথা থাকলেও দেওয়া মোটা দানার (৮০ টাকা কেজি দর) মশুরি ডাল, মাছও দেওয়া হয় বরাদ্দের অর্ধেক, খাওয়ার অনুপযোগী নিন্মমানের চাউল ও লবন খাওয়ানো হয় রোগীদের। আর ওয়াস রুমের চিত্রটি বর্ণনাতীত। রোগীদের পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য যোগসাজসে বাইরে পাঠানো হয়।
এসব নানা অভিযোগ উঠেছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাবার সরবরাহকারি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। জরুরী বিভাগে ডিগ্রীধারি চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়নি। মাসুদুর রহমান স্যাকমো (উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। আউট সোর্সিং-এ নিয়োজিত হাবিবুল্লাহ বিলাহীর দিয়ে রোগীদের কাটা-সেলাইয়ের কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে।
রোববার দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের (সজেকা) অভিযানে এসব দুর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগ হাতে-নাতে ধরা পড়েছে। এসময় নয়ন হোসেন নামের এক দালালকে আটক করে স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে এক প্রেসব্রিফিং-এ এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের অভিযানের টীম লিডার ডিএডি (উপসহকারি পরিচালক) চিরঞ্জীব নিয়োগী। উপস্থিত ছিলেন ডিএডি তৌহিদুল ইসলাম ও এএসআই রমেচা খাতুন।
তিনি আরও জানান, সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের একটি টীম ছদ্মবেশে সকাল থেকেই অভিযান চালানো হয়। প্রথমে রোগী সেজে খুলনা যাওয়ার কথা বলে মোবাইল করা হয় এ্যাম্বুলেন্স চালক এখলাসের কাছে। তিনি রোগী বহনের সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। তাকে সরকারি নিয়মের কথা বললে এ্যাম্বুলেন্স চালক সাফ জানিয়ে দেয়,“ওসব সরকারি নিয়ম এখানে চলে না”
উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দৈব চয়নের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও’র (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) উপস্থিতিতে রোগীদের জন্য কড়াইতে রান্নার কয়েকটি মাছের টুকরো পরিমাপ করা হয়। রোগীদের ১শ’১৮ গ্রাম মাছের টুকরো বরাদ্দ থাকলেও পাওয়া গেছে ৬০ থেকে ৮০ গ্রাম। পাউরুটি ১শ’৫২ গ্রাম বরাদ্দের বিপরীতে দেওয়া হয় মাত্র ৫৬ গ্রাম।
রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরের ল্যাবে পাঠানো হয়। রোগী বাইরে নেওয়ার জন্য নয়ন হোসেন নামের এক দালালকে আটক করা হয়। তিনি নিজেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ডায়াগনস্টিকের ম্যানেজার বলে দাবি করেন।