দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : মাত্র এক মাস আগের কথা। বুকভরা আশা আর কাঁধে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে অটোরিকশাটি কিনেছিলেন মো. জামাল। ভেবেছিলেন, হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকার কিস্তি শোধ করবেন, আর বাকি টাকায় সংসারে একটু স্বচ্ছলতা ফেরাবেন। কিন্তু বিধিবাম! সেই স্বপ্ন যে পুলিশের বেশধারী প্রতারকদের হাতে এভাবে ধূলিসাৎ হবে, তা কে জানত? ঘড়ির কাঁটায় তখন রোববার সকাল ৯টা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। দাউদকান্দির মাইজপাড়া এলাকায় জামালের রিকশায় চড়েন পুলিশের পোশাক পরা দুজন ব্যক্তি। তাদের হাতে ওয়াকিটকি, ভাবভঙ্গিতে মনে হচ্ছিল তারা যানজট নিরসনে অত্যন্ত ব্যস্ত। সরলমনা চালক জামাল ভাবতেই পারেননি, এই ‘আইন রক্ষক’ বেশেই তার রিকশায় চেপে বসেছে সর্বনাশা ‘ভক্ষক’।যাত্রীবেশী ওই দুই প্রতারক জামালকে নিয়ে হাসানপুর এলাকার দিকে রওনা হন। তারা সুকৌশলে জামালকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নির্জন হাসানপুর-বৌবাজার সড়কের দিকে নিয়ে যান। হাসানপুর গ্রামের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ভাড়ার ১০০ টাকার একটি নোট জামালের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়। আর এখানেই ঘটে বিপত্তি। টাকাটি হাতে স্পর্শ করার মুহূর্তেই জ্ঞান হারান জামাল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই টাকায় কোনো চেতনানাশক মেশানো ছিল। যখন জ্ঞান ফেরে, তখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন শখের অটোরিকশাটি নিয়ে উধাও হয়ে গেছে সেই ভুয়া পুলিশেরা। পাগলের মতো খোঁজাখুঁজি করেও কোনো হদিস মেলেনি। রাতে বাধ্য হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় অভিযোগ করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জামাল বলেন, “ভাই, কিস্তির টাকা শোধ করব কেমনে? রিকশাটাই তো আমার সব ছিল। আমি এখন পথে বসে গেলাম।” দাউদকান্দি মডেল থানার এসআই এহসানুল হক জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তারা তৎপর। কিন্তু যে সড়কে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধীদের শনাক্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবুও পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে এখন শুধুই অন্ধকার দেখছেন বাড়াগাঁও গ্রামের এই নিরীহ চালক। একদিকে ঋণের চাপ, অন্যদিকে জীবিকা হারানোর যন্ত্রণা- এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট জামালের অসহায়ত্ব এখন আকাশছোঁয়া।