মোংলা সংবাদদাতা : গ্রীষ্ম মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বিবেচনায় বনাঞ্চলে বিড়ি-সিগারেট বহন ও ধূমপান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। সুন্দরবনের জিউধরা, চিলা, জয়মুনি, কপিলমুনি ও কটকা সহ বিভিন্ন প্রবেশপথে বন বিভাগের ফরেস্ট গার্ডরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে দর্শনার্থী ও বনজীবীদের সতর্ক করছেন। বনাঞ্চলে আগুন লাগার সম্ভাবনা কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, শুষ্ক ও গরম আবহাওয়ার কারণে এ সময়ে বনভূমিতে আগুন লাগার আশঙ্কা বেড়ে যায়। সে কারণে এবারই প্রথম আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ধূমপান সামগ্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সকলের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। এ সময় জেলে, মৌয়াল ও বননির্ভর অন্যান্য মানুষ মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ এবং গোলপাতা কাটার কাজে বনাঞ্চলে প্রবেশ করেন। ফলে মানুষের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় অসাবধানতাবশত আগুন লাগার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সুন্দরবনে ৩৭ বার অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বনভূমির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু বিরল প্রজাতির গাছপালা ও প্রাণী ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বাগেরহাট জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষ বন বিভাগের এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, সুন্দরবন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ; তাই এর সুরক্ষায় কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।