নেত্রকোণা সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেত্রকোণা জেলা শাখার সাবেক আমীর ও নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা এনামুল হক বলেছেন- মহাগ্রন্থ আল-কুরআন হচ্ছে একটি সার্বজনীন গ্রন্থ। এটি শুধু মাত্র মুসলমানদের জন্য নয়। এটিকে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নাযিল করেছেন। এখানে পৃথিবীর সকল মানুষের কল্যাণের পথনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই কুরআনের মূলনীতে সমাজ পরিচালিত হলে সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। তখন ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ তার অধিকার ভোগ করতে পারবে। রাষ্ট্রের কোন নাগরিক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগবেনা।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেত্রকোণা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মালম্বী নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইসলাম এমন একটি ধর্ম যা অন্য সকল ধর্মকে সম্মান করতে বলে। অন্য সকল ধর্মের মানুষকে সম্মান করতে শেখায়। আমরা ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করি। আমরা এদেশের সকল মানুষকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময়ই ভিন্নধর্মালম্বীদের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। চব্বিশের ৫ আগস্টের আগে ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদেরকে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেয়নি। ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।

গতকাল (২২ সেপ্টেম্বর) সোমবার রাত সাড়ে আটটায় নেত্রকোণা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সনাতন ধর্মালম্বীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নেত্রকোণা জেলা শাখার সভাপতি জ্ঞানেশ চন্দ্র সরকার, সহ সভাপতি আলোক সরকার, সাধারণ সম্পাদক লিটন চন্দ্র পন্ডিত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নেত্রকোণা সদর উপজেলা শাখার সভাপতি পুলক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র বিশ্বশর্মা, নেত্রকোণা পৌর শাখার সভাপতি ঝন্টু সাহা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেত্রকোণা জেলা শাখার সভাপতি সিতাংশু বিকাশ আচার্য, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সুব্রত রায় মানিক প্রমুখ।

হিন্দু নেতৃবৃন্দ বলেন, এবার নেত্রকোণা জেলায় মোট ৫১৩টি পূজা মন্ডপে পূজা উদযাপিত হবে। এর মধ্যে নেত্রকোণা পৌরসভায় ৫৮টি এবং সদরে ৫৬টি রয়েছে। সকল পূজা মন্ডপে আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। জেলা প্রশাসনও আমাদেরকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা গতবছরের ন্যায় এবাও আপনাদেরকে আমাদের পাশে চাই।

তারা বলেন, বাংলাদেশ সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির দেশ। এখানে আমরা সবাই একই সমাজে বসবাস করি। গতবছর পূজা উপলক্ষে দেশের দু’এক জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও আমাদের নেত্রকোণায় তেমন কোন সমস্যা হয়নি। আশা করি, এবারও হবে না।

জামায়াত নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন সাইফুল, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, সহ সভাপতি এহসানুল হক ভূইয়া হিরো, পৌর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট মজিবুর রহমান মিলন প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদেরকে এদেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে দেয়নি। আমরা আমাদের কথাগুলো খোলা মনে কারো সাথে শেয়ার করতে পারিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা দেশবাসির কাছে যাবার সুযোগ পাচ্ছি। এখন দেশের মানুষ আমাদেরকে জানার, বুঝার সুযোগ পাচ্ছে। আমরা ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে যাবার চেষ্টা করছি। আমাদের আমীরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠির ভেদাভেদ না করে বিপদগ্রস্ত সকল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আমরা বিশ্বাস করি, কোন ধার্মিক ব্যক্তি অন্য কোন ধর্মের হার্মফুল হতে পারেন না। এটা কোন ধর্মেই স্বীকৃত না। হিন্দু নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আগামী শারদীয় দূর্গাপূজা যেন নির্বিগ্নে পালন করতে পারেন সেজন্য আমরা আপনাদের সহযোগিতায় পাশে থাকবো। আশা করি, কোন কুচক্রিমহল আপনাদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবে কোন ধরণের বিঘœতা সৃষ্টি করতে পারবে না।