টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ এলাকায় নির্বাচন পরবর্তী আধিপত্য বিস্তার ও পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে সংঘর্ষে পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ স্কুলের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বিএনপির পার্টি অফিসে বসে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর প্রতিপক্ষ গ্রুপ আকস্মিক হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি নেতা বেলালের নেতৃত্বে একটি দল দেশীয় অস্ত্রসহ পার্টি অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের মারধর করে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

ভুক্তভোগী মোঃ মোজাম্মেল লস্কর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে মোঃ বেলাল খান ও আশরাফুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পার্টি অফিসে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। অভিযোগে আরও বলা হয়, চাপাতির কোপে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং লোহার পাইপ ও রড দিয়ে মারধর করা হয়।

এ সময় তার ব্যবসার নগদ ৫২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে তার মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দলীয় কোন্দলে প্রকাশ্যে সহিংসতা ও পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এমন সংঘর্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন খান জানান, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষে জড়িতদের ভূমিকা এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সহিংস ঘটনা আর না ঘটে সে জন্য এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘটনার বিষয় সাবেক টঙ্গী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউদ্দিন সফি বলেন, সাতাইশ স্কুলসংলগ্ন সরকারি খাসপুকুরের পানি শুকিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরে নেওয়া, ফুটপাতে চাঁদাবাজি এবং মাদক কারবারসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করে সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। বিএনপির আদর্শ ও নীতির সঙ্গে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কিছু হাইব্রিড সুবিধাবাদী ব্যক্তি অবৈধ কার্যক্রমে জড়িয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।