চট্টগ্রাম ব্যুরো
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম ৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও রূপালী লাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মিতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
গতকাল বুধবার দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয় ২ এর সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ মামলাটি দায়ের করেন। দুদক সূত্র জানায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রায় ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকালে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০০২০৩ করবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংসদ সদস্য হিসেবে ভাতা ও সম্মানী, গৃহভাড়া, লভ্যাংশ, ঋণ, গাড়ি বিক্রি এবং অন্যান্য উৎস মিলিয়ে তিনি মোট ১০ কোটি ৬৬ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪৯ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তবে ব্যবসা ও মৎস্য খাতে প্রদর্শিত উল্লেখযোগ্য আয়ের পক্ষে গ্রহণযোগ্য কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
এছাড়া ২০১১–১২ থেকে ২০১৬–১৭ করবর্ষ পর্যন্ত স্ত্রীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার দাবি করা হলেও এর বৈধ উৎস বা প্রয়োজনীয় প্রমাণ মেলেনি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট সময়ে তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ৯ কোটি ৯১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩২ টাকা, ফলে সঞ্চয় দাঁড়ায় ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩১৭ টাকা। অন্যদিকে অনুসন্ধানে তাঁর নামে ২ কোটি ২৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮২২ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ৩৯ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪২ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ কোটি ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪ টাকা। ব্যয় বাদে বৈধ সঞ্চয়ের তুলনায় ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ১৪৭ টাকার সম্পদের উৎস পাওয়া যায়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের সময়কাল ধরা হয়েছে ২০০২ সাল থেকে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত।