খুলনায় জ্বালানি তেল এখন যেন দুষ্প্রাপ্য ‘সোনার হরিণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার দাবি করা হলেও পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার চলছে। জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে না পারায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খুলনার বিভিন্ন পাম্পে ‘তেল নাই’ লেখা সাঁটিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

দু-একটি পাম্পে সীমিত পরিমাণ পেট্রোল মিললেও অন্য জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে মোটর সাইকেলসহ যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেলে পাম্পের কর্মচারীদের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হচ্ছেন কেউ কেউ। বাইপাস সড়কে মেসার্স মারিয়া ফিলিং স্টেশনে পুলিশ পাহারায় তেল বিক্রি করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে আরও সংকটের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তেল মজুদের প্রবণতা বাড়ছে। অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করতে চাইছেন, বিশেষ করে মটরসাইকেল চালকরা।

নগরীর পাওয়ার হাউস মোড়ে কেসিসি পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে তেল নিতে আসা শাহ নেওয়াজ বলেন, গতকাল মঙ্গলবার দিনে ও রাতে কোন পাম্পে তেল পাইনি। বুধবার সকাল থেকে ঘুরে ঘুরে একটি পাম্পে দীর্ঘ দেড়-২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ৫০০ টাকার মটরসাইকেলে তেল ডুকাতে পেরেছি।

সোনাডাঙ্গা এলাকার হাসান বলেন, কোন পাম্পে তেল পাচ্ছি না। খুলনায় জ্বালানি তেল এখন সোনার হরিণ হয়ে গেছে।

খুলনা জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এস এম মুরাদ হোসেন বলেন, কোন ডিপো আমাদের পর্যাপ্ত তেল দিচ্ছে না। ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল দিচ্ছে না এ জন্য একটু চাপ পড়েছে। একটা মটরসাইকেল ২ বার তিন বার চার বার যদি তেল নেয় তাহলে পাম্পে আর তেল কতক্ষণ থাকে। একটা পাম্পে একজন যদি ১৪ বার তার মটরসাইকেলে তেল নেয় তাহলে অন্যরা

নিবে কি।