সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় উপজেলা কয়রা ও পাইকগাছায় ভূউপরস্থ পানি সেচ হিসেবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। খালে পলি ভরাট হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে ৫০ সেন্টিমিটারের বেশি পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। চিংড়ির বিকল্প বোরো, সূর্যমুখী, তরমুজ ইত্যাদি মওসুমী সবজির জন্য সেচ সুবিধা নেই। দুই উপজেলার ৬৭টি খাল খননযোগ্য বলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ২০২১ সাল থেকে দাবি করে আসছে। এবারও খালগুলো খনন হচ্ছে না। বিএনপি সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, খাদ্যে স্বয়নসম্পন্ন করতে সেচ উপযোগী করার জন্য খাল খনন শুরু হয়েছে। এখানাকার পলিজমা খালগুলো খননে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সময়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সিডর, আম্পন, ইয়াস, আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবং নদী ভাঙনে এখানকার পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়নি। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে চিংড়ি ঘের ও মৌসুমি ফসলের ক্ষতি হয়। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ মওসুমে পাইকগাছা উপজেলায় ৬ হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে বোরো, ৮৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী, ১৩৮৫ হেক্টর জমিতে তরমুজসহ অন্যান্য সবজি এবং কয়রা উপজেলায় ৫৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো, ১২১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী, ৫৩০ হেক্টর জমিতে তরমুজসহ অন্যান্য শাক সবজির আবাদ হয়েছে।
২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট পাইকগাছা উপজেলার পোল্ডারে স্লুইস গেট নিয়ন্ত্রণ ও পানি গবেষণার উপর গবেষণা করে। কৃষি তথ্য সার্ভিস এর প্রকাশনা ২০২৫ সালের অক্টোবরের কৃষি কথা নামক প্রকাশনায় বলা হয়েছে, উপকূলবর্তী এসব জায়গায় শুষ্ক মৌসুমে ৫০ সেন্টিমিটারের বেশি পানি সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। বোরো আবাদে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে কাঙ্খিত ফসল লাভ করতে হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার প্রকৌশলী দিপঙ্কর বালা জানিয়েছেন, উল্লিখিত এলাকার খালগুলি খননযোগ্য বলে ২০২১ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এসব খালের দৈর্ঘ এক হাজার থেকে ৭ হাজার মিটার পর্যন্ত। প্রস্থ গড়ে ২০ মিটার। বিএডিসির তত্ববধায়নে উপকূলের অন্যান্য স্থানে এবার ৫০০ কিলোমিটার খাল খনন হচ্ছে। কিন্তু চিংড়ির বিকল্প হিসেবে স্থানীয়রা বোরোসহ অন্যান্য সবজির আবাদ করলেও উল্লিখিত দুই উপজেলায় শুষ্ক মওসুমে সেচ সুবিধা খুবই কম। ভরাট হওয়া খালগুলো হচ্ছে পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের বসুখালী, বাঁকার চর, শ্রীকণ্ঠপুর, গড়ইখালী ইউয়নের বগুলার চক, হেতালবুনিয়া, কুমখালী, উত্তর কাটাখালী, দক্ষিণ কাটাখালী, কাঠালতলা, কানাখালী, লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া, কেয়ার, ঠাকুরনবাড়ী, দেলুটি ইউনিয়নের সেনের বেড়, তেলিখালী, ফুলবাড়ি, তালতলা, হরিণখোলা, লতা ইউনিয়নের বেতাখালী, বাটুলতলা, পুটিমারী, শোলাদানা ইউনিয়নের হরিহর, বেদবুনিয়া, সোনাখালী, নুনিয়াপাড়া, বাঁশতলা, পাইকগাছা টাট, গদইপুর ইউনিয়নের পোলের মাথা, বড় খাল, কুল তলা, মঠবাটি, কচুবুনিয়া, কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ভাগবা, খোড়লকাটি, আমাদী ইউনিয়নের চাদনীর চক, হাতিয়ার ডাঙ্গা, হরিকাঠি, তেরলিয়ার, কাঠাখালি, কেনুকাঠি, পিয়ার খালী, খিরল, আমাদী, মহারাজপুর ইউয়িনরে কলুখালী, বুজজুবলী, অর্জন, কুচিমোড়া, বয়ারশিং, জোৎস্নাখালী, কুলতলা, নুরুহারা, দক্ষিণবেদকাশীর হাংটিহারা, জোড়শিং, বীনাপানি, খোলখালী, চরমুখা, ঘড়িলাল, মায়াখালী, কয়রা সদর ইউনিয়নের ছোট দেউলিয়া, পয়রাতলা, গাদীকুমর, পাগড়ামারী, ঠাকুরঘেরী, শেখের ঘেরী, পূর্বকয়রা, পাটটানানো, বাগালী ইউনিয়নের বাজারীয়া, সুতাখালী, শিংহের, টেকের, বন নদী, বটতলা, নৈইলতলা, ট্যাক, গাবরখালী, তেঁতুলতলা, চক চন্নামারী, সড়িখালী, ঘোষখালী, পাটনীখালী হেলাতবুনিয়া, তারাখালী, পাটনীখালী ও বাঁশতলা।