নরসিংদীর মাধবদীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে নরসিংদীর পুলিশ। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এস এম ফয়েজ বাদী হয়ে মাধবদী থানায় এই মামলা করেছেন।
এর আগে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে মাধবদী থানার ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে বাস পার্কিং এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন সাংবাদিক কমবেশি আহত হয়েছেন।
সাংবাদিক এস এম ফয়েজ জানান, ক্র্যাব ফ্যামিলি ডে-২০২৬ উপলক্ষে সংগঠনের সদস্যরা পরিবারসহ ১২টি বাসে করে সকালে (সোমবার) ড্রিম হলিডে পার্কে যান। সারা দিনের অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় বাসে ওঠার সময় পার্কিং ফি নিয়ে স্থানীয় আলী গাড়ি পার্কিংয়ের মালিক হারুন মিয়া ও তার লোকজনের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পার্কিং ফি’র রশিদ চাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন হারুন মিয়া, তার ছেলে ও সহযোগীরা দা, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় ক্র্যাবের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এস এম ফয়েজ গুরুতর আহত হন।
অভিযোগ রয়েছে, আলাল সরকার নামের এক ব্যক্তি ধারালো দা দিয়ে এস এম ফয়েজের মাথায় আঘাত করেন। একই ঘটনায় খবর সংযোগের সিনিয়র রিপোর্টার শহিদুল ইসলাম শাহেদ ও জিটিভির সিনিয়র রিপোর্টার মহসিন কবিও আহত হন। মহসিন কবিরের কাছ থেকে চার হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার সাখাওয়াত কাউছার, এশিয়ান টিভির ক্রাইম চিফ নয়ন এবং ক্র্যাবের কর্মী লাল মিয়াসহ আরও কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীরা একটি ভাড়া করা বাসের কাচ ভেঙে দেন এবং বাসে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেন।
খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলাল সরকার (২৬) ও রনি মিয়া (২৫) নামের দুজনকে গ্রেফতার করে। অন্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। আহতদের নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল বলেন, মামলা হয়েছে। আশা করছি পুলিশ সব আসামিদের গ্রেফতার করবে।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় প্রথম দিনই ঘটনার পর পর দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।
জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি : চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ১০ জন সাংবাদিক আহতের ঘটনায় এখনো মুল আসামী ধরা পড়েনি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠান শেষে বাসযোগে ঢাকায় ফেরার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন চারজন।
ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ সহ কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ড্রিম হলিডে পার্কের সামনের এ ঘটনায় স্থানীয় চাঁদাবাজদের তালিকা করে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। এছাড়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আহতদের আশু রোগ মুক্তি কামনা ও দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।
ঘটনার পর থেকে প্রায় ভোর পর্যন্ত ক্র্যাব সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় গতকাল দুজন আর আজ আরো একজনকে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিআরইউর নিন্দা ও প্রতিবাদ : নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা পরিকল্পিত এবং চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে হামলার ঘটনা প্রমাণ করে সন্ত্রাসীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ আহত সাংবাদিকদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
ডিআরইউ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও তাদের মদদদাতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সারাদেশের সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।