যাকাতের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রহীতাকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করে তোলা, যাতে আজকের গ্রহীতা আগামীতে যাকাত দিতে পারে, স্বাবলম্বী হতে পারে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় যাকাতের বিকল্প নেই। দেশে আল্লাহর নির্দেশিত বাধ্যতামূলক এই ইবাদতটি সঠিকভাবে প্রতিপালন হচ্ছে না। ফলে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে অসমতা। ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় যাকাত দিয়ে সমাজের দরিদ্র বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে বিশেষ কোন পরিবর্তন রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। সেই চিন্তা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশে বেসরকারী সংস্থার উদ্যোগে যাকাত তহবিল গঠন করে তাতে সকলকে অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহকতায় দেশেও বিগত ১৭ বছর ধরে যাকাত ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে ‘সিজেডএম’। ব্যক্তিগতভাবে যাকাত দিলে তা টেকসই হয় না। প্রতিষ্ঠানিক উপায়ে যাকাত প্রদাণ করলে টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সেই জায়গা থেকে সিজেডএম অনন্য ভূমিকা পালন করছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারী) সিলেট নগরীর দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি মিলনায়তনে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) আয়োজিত যাকাত আদায়ের নিয়ম কানুন বিষয়ক সেমিনারে বক্তাগণ উপরোক্ত কথা বলেন। সেমিনারে যাকাতের অর্থ সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণসহ সিজেডএমের বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।
সিজেডএম এর সিনিয়র ম্যানেজার হোসেইন সোহেলের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট এর হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্নেল (অবঃ) মোঃ জাকারিয়া হোসেন। দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক আলীমুল এহছান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী, সিলেট সরকারী কলেজ জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মোহাম্মদ এহসান উদ্দিন। সেমিনারে নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে মোহাম্মদ এহসান উদ্দিন ব্যাক্তিগত যাকাত ও ব্যবসায়িক যাকাত নিরুপনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী যাকাত বিষয়ক মাসয়ালা মাসায়েল ও প্রশ্নোত্তর অংশে শ্রোতাদের যাকাত বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সিজেডএম যাকাত তহবিল সংগ্রহ করে তা বঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিতরণ ও তত্ত্বাবধান করার কাজটি সূচারুরুপে করে যাচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করার জন্য মূলধন হস্তান্তরসহ নানাবিধ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ সহায়তা পেয়েছে। সিজেডএমের কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে জীবিকা বা আয়-বর্ধক কর্মসূচি, মুদারিব, ফেরদৌসি বা প্রাক-প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ইনসানিয়াত বা জরুরি সহায়তা, জিনিয়াস বা গুলবাগিচা, নৈপুণ্য বিকাশ ও দাওয়াহ ইত্যাদি।
সিলেটের খাদিমনগরে সিজেডএম জীবিকা কর্মসূচী সুরমা-১ ও সুরমা-২ এর আওতায় ১০০০ পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন হয়েছে। জিনিয়াস শিক্ষা বৃত্তি পেয়ে সিলেটের সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ৩৩০ ছাত্র তাদের উচ্চশীক্ষা সম্পন্ন করে পরিবারের হাল ধরেছে, বর্তমানে ১৩০ এর বেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী এই বৃত্তি পাচ্ছে। নগরীর খাদিমনগর ও জয়পাশাতে সিজেডএম ফেরদৌসি কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ১০০০ পরিবার নিয়মিত প্রাথমিক চিকিৎসা পাচ্ছে। সিলেটেই সিজেডএম এফডিসিসি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র নির্মানাধীন রয়েছে।