ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি শাহজালাল বিমানবন্দরে

সড়ক পথে বেড়েছে দুর্ঘটনা

বাধাগ্রস্ত নৌচলাচল

গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহত শীতে কাঁপছে সারাদেশ। সাত জেলায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র বর্তমানে শীত ও ঘন কুয়াশার ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এরমধ্যে কুয়াশা এতো বেশি যে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছেন না। যারা একান্তই বেশি প্রয়োজনে বের হয়েছেন তারা পড়েছেন বিড়ম্বনায়। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান অবতরণ করতে পারেনি। সড়ক পথে বেড়েছে দুর্ঘটনা এবং নৌপথেও চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

গতকাল শুক্রবার ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। এ ছাড়া, আগামী দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। কুয়াশায় রানওয়ে দৃশ্যমান না থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, কুয়াশার কারণে ৪টি ফ্লাইট চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে, ৪টি ফ্লাইট কলকাতা বিমানবন্দরে, ১টি ফ্লাইট ব্যাংকক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ৯টার পর থেকে সকল ফ্লাইট অপারেশন পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়। ডাইভারশন হওয়া ফ্লাইটগুলোকে ফিরিয়ে আনা শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের চারটি স্থানে পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা, শ্রীনগরের বেজগাঁও বাসস্ট্যান্ড, এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ী, এক্সপ্রেসওয়ের দোগাগাছি এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা এলাকায় যাত্রীবাহী বাস, কাভার্ডভ্যান ও মিনি ট্রাক, মাইক্রোবাসের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় বাসের কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত তিনটি গাড়ি সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী টুংগীপাড়া এক্সপ্রেসের একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা এলাকায় আসলে ঘন কুয়াশার কারণে চালক দেখতে না পেয়ে সামনে থাকা ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের একটি ঔষধ কোম্পানির কাভার্ডভ্যানকে ধাক্কা দেয়। এসময় পেছন থেকে একটি মিনি ট্রাক এসে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটায়। এতে বাসে থাকা কমপক্ষে ১০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কে ধীরগতিতে চলছিল গাড়ি।

শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, সকালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা টুংগীপাড়া এক্সপ্রেসের সঙ্গে কাভার্ডভ্যান ও মিনি ট্রাকের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় সড়ক থেকে গাড়ি ৩টি উদ্ধার করে সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। গাড়িগুলোকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে ঘন কুয়াশা দেখা দেয়। রাতে ঢাকা থেকে সাদ আবদুল্লাহ পরিবহনের একটি বাস পদ্মা সেতুর দিকে যাচ্ছিল। একই লেনে যাচ্ছিল গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস। গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি রাত পৌনে ৯টার দিকে শ্রীনগরের বেজগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে সাদ আবদুল্লাহ পরিবহনের বাসটি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি বাসের অন্তত ৯ জন যাত্রী আহত হন। তাছাড়া দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ী এলাকায় দুটি ট্রাক ও একটি বাসের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস জানায়, মামুন পরিবহনের একটি বাস ছনবাড়ী সেতুর ওপর উঠছিল। কুয়াশার কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একই লেনে একটি মালবাহী ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এ সময় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক বাসটির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের ও পেছনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন।

শ্রীনগর ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির চালক বাসের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। ফায়ার ফাইটাররা দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর বাসের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করেন। এ ছাড়া অন্য আহত ব্যক্তিদের বাড়ি ফরিদপুরে হওয়ায় তাদের অন্য গাড়িতে করে ফরিদপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখান থেকে আবার উন্নত চিকিৎসার জন্য কয়েকজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া শুক্রবার ভোর সোয়া ৫টার সময় লৌহজং উপজেলায় এক্সপ্রেসওয়ের দোগাগাছি এলাকায় মাওয়ামুখী একটি ট্রাকের পেছনে কাভার্ডভ্যান ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকে থাকা এক ব্যক্তি আহত হন। মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, ঘন কুয়াশা ও সড়কে অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে শরীয়তপু-চাঁদপুর নৌপথে ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এতে উভয়পাড়ে শতাধিক যানবাহন আটকে আছে। বিআইডব্লিউটিসির নরসিংহপুর ফেরিঘাটের উপ-ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘গভীর রাতে হঠাৎ করে ঘন কুয়াশা পড়ায় নদীপথে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’

বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, শরীয়তপুর চাঁদপুর নৌপথে বর্তমানে ছয়টি ফেরি চলাচল করে। তবে ফেরিগুলোতে আধুনিক ফগ লাইট ও প্রয়োজনীয় নেভিগেশন সুবিধা না থাকায় কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ কারণেই কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল স্থগিত রাখে। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় নদীর উভয় পাড়ে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়েছে। বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানসহ ছোট যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছেন। এতে করে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন ব্যবসায়ীরা।

নরসিংহপুর ও চাঁদপুর পাড়ের ফেরিঘাট এলাকায় ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব আরও বেড়ে যায়। নদীর মাঝখানে কয়েক মিটার দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো না। অনেক যানবাহনের চালক শীতের মধ্যে রাতভর ফেরিঘাট এলাকায় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুয়াশা কেটে গেলে এবং নদীপথে দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক হলে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা হবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। এ ছাড়া, আগামী দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এদিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঁঞ্চগড়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসমূহের উপর দিয়ে মুদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কিছু কিছু জায়গা থেকে তা প্রশমিত হতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এরমধ্যে আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এদিনও কুয়াশার কারণে যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামীকাল রোববার থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী সোমবার এবং মঙ্গলবার একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ও সারাদেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। পঞ্চম দিনে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : মাঝারি থেকে মৃদু মাত্রার শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। ৩ দিন ধরে স্থিতিশীল রয়েছে ৮/৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। হাড়কাঁপানো শীতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। কুল কুল ঠান্ডা বাতাসে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। ছয় দিন পর জেলায় সূর্যের দেখা মিলেলেও সূর্যের ক্ষীণ তাপ কাজে আসছেনা। শৈত্য প্রবাহের মাত্রা বেশী হওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। দিন মজুররা কাজের অভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের খাদ্যাভাব দুর করার জন্য এখনো পর্যন্ত কেউ সাড়া দেয়নি। নিম্নমানের কম্বল বিতরণ করেই অনেকে দায় সারছে।

বয়োবৃদ্ধ রিক্সাওয়ালা ইলিয়াস জানান,শীতের আগে রিক্সা নিয়ে বের হলে আয় রোজগার ভালই হতো। এখন খুবই দুরাবস্থা। শীতে কেউই রিক্সায় চড়ছেনা। সে কারনে একেবারে ভাড়া হচ্ছে না। রিক্সা চালিয়ে আয় রোজগার করে সংসার চালায়। এখন আয় রোজগার নেই, মানুষের কাছে হাত পাততে লজ্জা করছে। দিন মজুর আরমান আলী চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ হাসান চত্বরের একপাশে কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলো। তিনি জানান, খুব শীতের কারনে বেশ কদিন হলো কেউ তাকে কাজে নিচ্ছে না, নিদারুণ কষ্টে দিন চলছে। গ্রামের দোকান থেকে দোকানদার আর বাকী দিচ্ছে না। তার কষ্টে কেউ এগিয়ে আসেনি।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। গত তিনদিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে একটানা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। এর আগে, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। বৃহস্পতিবার ছিল ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তরের হিম শীতল বাতাস, ঘন কুয়াশা আর মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আগামী দুদিন এমন আবহাওয়া বিরাজ করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।