মো. লাভলু শেখ, মোস্তাফিজুর রহমান, আমিনুর রহমান, আরিফ আহম্মেদ, আহসানুল হক জুবায়ের, রফিকুল ইসলাম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিস্তা আর মরুভূমি থাকবে না। তিস্তাকে জীবন দেওয়া হবে এবং এটিকে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে।
গতকাল বুধবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজের হেলিপ্যাড মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তার পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা উর্বর হয়ে উঠবে এবং নদীভাঙনের কবলে পড়ে বছরের পর বছর যে হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। তাদের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। তিনি বলেন, “যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে ইনশাল্লাহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের জনগণের স্বার্থই আমাদের কাছে সর্বাগ্রে। আমাদের স্বার্থে কেউ বাধা দিলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি উপস্থিত জনতার কাছে দাঁড়িপাল্লায় ভোটের সমর্থন কামনা করলে সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা হাত তুলে সাড়া দেন।
জামায়াত আমীর তার বক্তব্যে বুড়িমারী স্থলবন্দর প্রসঙ্গে বলেন, স্থলবন্দরটি আধুনিকায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য, অবদান রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে লালমনিরহাট পর্যন্ত ৬ লেনের সড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। সড়কের বেহাল অবস্থার সমালোচনা করে বলেন, এ সড়ক দিয়ে রোগী পরিবহনসহ সাধারণ চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের অবহেলার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুগের পর যুগ এ অঞ্চলের মানুষ বঞ্চনার শিকার হয়েছে। জনগণের আবেগকে কাজে লাগিয়ে পালাবদলের রাজনীতির মাধ্যমে অনেকে ক্ষমতায় গেলেও ৫ বছরে একবারও সাধারণ মানুষের দিকে ফিরে তাকায়নি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, উত্তরবঙ্গকে কৃষি ও শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানকার উৎপাদিত পণ্য শুধু দেশের চাহিদা পূরণই নয়। আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। তিনি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার দোয়া কামনা করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার ৭জন প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত জনতার পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। সেই সাথে দাঁড়িপাল্লা প্রতিক হাতে তুলে দিয়েছেন।
বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম খান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর এবং দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মোঃ মমতাজ উদ্দিন প্রমূখ।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট সদর-৩ আসনের দাঁড়ি পাল্লার প্রার্থী ও লালমনিরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অ্যাডভোকেট ও জনপ্রিয় নেতা মোঃ আবু তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এ অন্চলের জনপ্রিয় নেতা লালমনিরহাট-১ আসনের প্রার্থী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, লালমনিরহাট-২ আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জননেতা অ্যাডভোকেট মোঃফিরোজ হায়দার লাভলু, নীলফামারী-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী এবং নীলফামারী-৪ আসনের প্রার্থী হাফেজ মোঃ আব্দুল মুন্তাকিম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও রংপুর এবং দিনাজপুর অঞ্চলের ইউনিট পরিচালক এ্যাডভোকেট আব্দুল বাতেনসহ জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
কুড়িগ্রাম
“চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজ মাঠে স্মরণকালের সুবিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন- কৃষি নির্ভর রংপুর অঞ্চলকে কৃষি শিল্পের নগরীতে পরিনত করা হবে ইনশাআল্লাহ। অবহেলিত জনপদ কুড়িগ্রাম জেলার নদনদীগুলোকে স্থায়ীভাবে শাসন করা হবে যাতে আর কোনো পরিবারকে নদী ভাঙনের শিকার হতে না হয়। বেকারত্ব দূরীকরণের ব্যাপারে তিনি বলেন- বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেকারত্ব দূরীকরণ করা হবে। দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে আমাদের মূল লক্ষ। আমরা দূর্নীতি করবো না কাউকে দুর্নীতি করতে দিবো না ইনশাআল্লাহ। জাতীয় নির্বাচনের পর ইনসাফের দেশ গড়ার দিকে পা বাড়াবে বাংলাদেশ, এমন মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন- পেছনে থাকানোর সুযোগ নেই, অপপ্রচার সমালোচনাকারীরাই পেছনে পড়ে থাকবে। আমাদের অগ্রযাত্রাকে আর দমিয়ে রাখা যাবেনা। যাদের জন্য আজ এ দেশ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার শক্তি সাহস সঞ্চয় করেছে, তাদেরকে আজ অপমান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের কারণে অনেকে আজকে জেল থেকে বের হয়েছে। বিদেশে গিয়ে অনেকে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাদের কারণে আজ অনেকের দেশে আসার সুযোগ হয়েছে। আজকে সেই উপকারকে আপনি উপহাস করেন। এটা তাদের জন্য বুমেরাং হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা এই যোদ্ধাদের কথা দিচ্ছি, তেরো তারিখ ইনশাআল্লাহ নতুন করে বাংলাদেশ পাবে দেশের জনগণ। সেদিন আমাদের মায়েদেরকে আমাদের মাথার ওপর তুলে মর্যাদা দেবো ইনশাআল্লাহ। তাদেরকে ঘরে বাইরে কর্মস্থলে সর্বত্র সব জায়গায় পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপনের সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ নিজাম উদ্দিন’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম, জুলাই বিপ্লবের অগ্র সৈনিক মোঃ আখতার হোসেন সদস্য সচিব জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদ রাকসুর ভিপি কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের উদীয়মান তরুণ নেতা মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর নুর উদ্দিন কাসেমী, কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আবদুল মতিন ফারুকী, ঢাবির ছাত্র পরিবহন সম্পাদক কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপনের সুযোগ্য সন্তান আসিফ আব্দুল্লাহ, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাস্টার শামসুল হুদা মিঠু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তাজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা শিবিরের সভাপতি তুখোড় ছাত্রনেতা মোশাররফ হোসেন,কুড়িগ্রাম জেলা শিবিরের সেক্রেটারি মোবাশ্বের রাশেদীম।
আয়নাঘরের বিভৎস নির্মম নির্যাতনের শিকার উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কবির উদ্দিন মিঠু তার শরীরের ক্ষতস্থানের বর্ননায় বলেন আমার হাতের নখ তুলে ফেলে নখের ভেতর সুই চালানো হয়েছে এবং প্লাস দিয়ে চামড়া টানা হয়েছে, পা উপরের দিকে লটকিয়ে শারীরিক নির্যাত করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী ডক্টর আতিক মুজাহিদ শাপলা কলিসহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে দুর্নীতিমুক্ত সরকার গঠনের উদার্ত আহবান জানিয়ে কুড়িগ্রামের কৃতি সন্তান তরুণ প্রজন্মের আইকন ডক্টর আতিক মুজাহিদ আরও বলেন আমারা কম্বল কিংবা ত্রাণ চাইনা সম্মানজনক মর্যাদার কর্ম চাই।
কুড়িগ্রামের সকল সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী কুড়িগ্রাম-৩ আসনের ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী (দাঁড়িপাল্লা) তিনি বলেন আমারা অবহিত থাকতে চাইনা। কুড়িগ্রামের জন্য যে বরাদ্দ তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে আতœমর্যাদায় সুনামের সাথে সুনাগরিকের মর্যাদায় বাসতে চাই। কুড়িগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক জননেতা অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও গণমানুষের পছন্দের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বলেন, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপ্রসারিত স্থায়ী ক্যাম্পাস সহ সব ধরনের সমস্যা সমাধানের দায়দায়িত্ব সরকার বহন করবে। মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সমস্ত শিক্ষা খরচ বহন করবে সরকার। সন্তান লালন পালনে মায়েদের ভূমিকা অপরীসিম এবং এ নেয়ামত মহান আল্লাহ তা’আলা শুধু মায়েদেরকেই দিয়েছেন।
বেকার ভাতার সমালোচনা করে বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করবো না। আমরা যুবকের প্রত্যেকটা মজবুত করে গড়ে তুলবো যাতে করে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে পারে। এবার তারাই চিৎকার দিয়ে বলবে আমিই বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশকে গর্বিত নাগরিক বানাতে চাই যুব সমাজকে।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেশে অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। মা বোনদেরকে অপমান করা। তার প্রতিবাদ করায় এখন চোরের মতো আমার পেছনে লেগেছে। তাদের সামনাসামনি প্রতিবাদ করার সাহস নেই। এসব লোকেরা সামনে আসার সাহস পাবেনা পেছনেই পড়ে থাকবে। তিনি আহবান জানিয়ে বলেন, নিজের আদর্শ কর্মসূচি পরিকল্পনা বক্তব্য চরিত্র নিয়ে আসুন। আমাদের দল আমাদের শাসক আমাদের সরকারই পারবে একটা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দিতে। অবশ্য সেটি তারা বলেনি। তারা চাইছে টুটি চেপে ধরতে। বগলের তলে ঋণ খেলাপি, আর আপনিই দিবেন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ? জনগণ সবার চালাকি বুঝে। জনগণ এখন আর বোকা না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, ফেলানীর বাড়ীতে আমি গিয়েছি তার মা বাবা চোখের পানি ফেলেছে। তার চোখের পানি ফেলেনি রক্ত ফেলিয়ে। আর এমন হতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেশী থাকবে বন্ধুর মতো। কোনো আধিপত্যবাদ বা চোখ রাঙানিকে পরোয়া করা হবে না। তিনি গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা, ‘না’ মানে গোলামি। আগামী ১২ তারিখে প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’ দিয়ে সবাইকে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের মাঝে গণজোয়ার সৃষ্টি করার আহ্বান জানান তিনি।
সুবিশাল কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠ কানায় কানায় ভর্তি হয়ে আশপাশের সকল রাস্তায় মানুষের উপস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য রাস্তায় চলাচল সাময়িক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সুবিশাল নির্বাচনী জনসভায় মুহূর্তে মহিলারা তাদের নির্ধারিত স্থান ভরিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে ডাঃ শফিকুর রহমানের বক্তব্য শোনেন এবং তার-ও দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে শ্লোগান দেয়।
এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে নীচের মৌলিক কিছু বিষয়ে মুহতারাম আমীরে জামায়াতকে অবহিত করা হয়।
একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন করা, কালিগঞ্জ থেকে কচাকাটা, কাঠালবাড়ি থেকে ফুলবাড়ি এবং ব্রক্ষপুত্রের বুকে চিলমারী থেকে রৌমারী ব্রিজ স্থাপন করা, টেক্সটাইল মিল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করুন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র দুইটি ডিপার্টমেন্ট চালু যা ভাড়া বাসায় পরিচালিত হচ্ছে। নিজস্ব ক্যাম্পাস স্থাপন এবং ডিপার্টমেন্ট বৃদ্ধি করন, চর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করুন এবং সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, বেকার যুবকদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিল্প, কলকারখানা স্থাপন, অর্থনৈতিক জোন চালু করন, নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং কৃষি খাতের উন্নয়ন করা, বেশ কয়েকটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই যা অতীব জরুরি, জেলায় আন্তঃনগর ট্রেন একটি যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল, এখানে আরো অন্তত দুইটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা দরকার মর্মে জানানো হয়। দাবীর প্রেক্ষিতে আমীরে জামায়াত বলেন-
যুবসমাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের যুবকরা কখনো বেকার ভাতার জন্য আন্দোলন করেনি। তারা সম্মানজনক কাজ চেয়েছে। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা নয়, সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই কাজের সুযোগ পাবে। কর্মক্ষেত্র, চলাচল ও সমাজের সর্বত্র নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি এবং কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এডভোকেট মোঃ ইয়াছিন আলী সরকার, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ মিয়া, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য আলতাফ হোসেন, জেলা বায়তুল মাল সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম সদর আমীর মাস্টার শামসুল হুদা মিঠু, কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং শহর শাখা সেক্রেটারি এডভোকেট তাজুল ইসলাম, শহর কর্ম পরিষদ সদস্য এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল, খেলাফত মজলিসের রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক শবেবর রহমান, এনসিপির কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া প্রমুখ।
হাতীবান্ধা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা উপলক্ষ্যে লালমনিরহাটে মহা সমাবেশে যোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও ১১-দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান।
গতকাল বুধবার দুপুরে হাতীবান্ধা দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাড মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। তার এই আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢলে কানায় কানায় পূর্ণ হয় সমাবেশস্থল।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের কর্মসূচি শেষ করে দুপুর ১টার দিকে তিস্তা হেলিপ্যাড মাঠে পৌঁছান জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। লালমনিরহাট জেলা আমীর ও লালমনিরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীর আবু তাহের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা।
সমাবেশে লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার জামায়াত মনোনীত মোট সাতজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম ও হাতিবান্ধা) আসনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে এই সমাবেশটি বিশাল জনতার ঢলে পরিণত হয়। সমাবেশে পার্শ্ববর্তী নীলফামারী জেলা থেকেও হাজার হাজার মানুষ যোগ দিয়েছেন।
সমাবেশ ঘিরে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নীলফামারী ও লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দুই জেলার নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশটি এক বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে।
ময়মনসিংহ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই দেশ আমাদের প্রিয় দেশ। আল্লাহ তায়ালা এমন একটি সুবজ শ্যামল দেশে আমাদেরকে জন্ম দিয়েছেন, যেখানে মাটি আমাদের উর্বর, মানুষ আমাদের পরিশ্রমী, পানিতে আছে সম্পদ, মাটির নিচে সম্পদ। এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দুই দুইবার স্বাধীনতা ১৯৪৭ এবং ১৯৭১। কিন্তু এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায়, দীর্ঘ ৭৭ বছরে বাংলাদেশ একটা জায়গায় এসে দাঁড়াতে পারলো না। দুনিয়ার বুকে সম্মানিত একটা জায়গা করে নেয়ার কথা ছিলো এটা এখন আর নেই। আমাদের দেশের পাসপোর্টের ভ্যালু খুব দুর্বল। অনেক জায়গায় দেশের পরিচয় দিতে অনেকে লজ্জাবোধ করেন। এর জন্য দায়ী আমাদের অসৎ নেতৃত্ব। যারা জনগণকে ধোকা দিয়ে তাদের ধারণা অনুযায়ী বোকা বানিয়ে জনগণের কপাল খামছে খায়। এরাই বাংলাদেশকে ৫৪ বছরে এগুতে দেয়নি। ময়মনসিংহ একটি কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে তার সাক্ষী আপনারা। এই রকম একটি কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কৃষিতে বিপ্লব হয়ে চেহারা পাল্টে যাওয়ার কথা। আমি জানি এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার জন্য যে পরিমাণ বাজেট ও পার্যান্ত জনবল সরবরাহ করা দরকার তা করা হয় না। তারপরও এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে কাছাকাছিও কিছু দিতে পারে নাই। আমরা ঘোষণা দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ আগামী ১৩ তারিখ থেকে যদি নতুন বাংলাদেশ আল্লাহর ইচ্ছা এবং আপনাদের মায়াবী হাতের ভোটের মাধ্যমে ইনসাফের পক্ষে যদি রায় আসে, আল্লাহ যদি ১১ দলকে দেশবাসীর সেবা করার তৌফিক দেন তাহলে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হবে ইনশাআল্লাহ।
গত মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর ও সদর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি গড়তে হলে ভালো শিক্ষা আমাদের লাগবে। সেই শিক্ষাকে পঙ্গু বানিয়ে রাখা হয়েছে। প্রথমত বাজেটে শিক্ষাকে অবহেলা করা হয়। দ্বিতীয়ত দলীয় আনুগত্য দেখিয়ে অসৎ লোকদের হাতে যা বাজেট আছে তা তুলে দেয়া হয়।
আমাদের যুবক-যুবতীরা, তরুণ-তরুণীরা সেই পুরোনো রাজনীতি আর চায় না। এমনকি শিশুরাও চায় না, আমাদের মা-বোনেরাও চায় না। এবারের নির্বাচন কোন সাধারণ নির্বাচন নয়। এবারে নির্বাচন জাতির কিসমত উপযুক্ত রাস্তার উপর দাঁড় করিয়ে দেয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচনে দুটি মূল্যবান ভোট। প্রথম ভোট হবে গণভোটে হ্যাঁ। হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। আমরা নিজেরা হ্যাঁ ভোট দিবো আর সারা ময়মনসিংহবাসীকে হ্যাঁ ভোটে নিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি ও মুক্তাগাছা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম ভূঁইয়া।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিশের ময়মনসিংহ জেলা শাখার আমীর মাওলানা নজরুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের ঈশ্বরগঞ্জ-৮ আসনের প্রার্থী আওরঙ্গজেব বেলাল, ১১ দলীয় জোটের ভালুকা-১১ আসনের প্রার্থী ডাঃ জাহিদুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের ফুলপুর-তারাকান্দ-২ আসনের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ, ১১ দলীয় জোটের নেজামে ইসলাম ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি মাওলানা আজিজুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের নান্দাইল-৯ আসনের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, ১১ দলীয় জোটের নেত্রকোণা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুড়ী) আসনের প্রার্থী আল-হেলাল তালুকদার, ১১ দলীয় জোটের গৌরীপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবু তাহের খান, ১১ দলীয় জোটের ফুলবাড়িয়া-৬ আসনের প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন, ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রশিবিবের সভাপতি ডাঃ ফাউজান আব্দুর রহমান, ১১ দলীয় জোটের গফরগাঁও-১০ আসনের প্রার্থী ইসমাইল হোসেন সোহেল, ১১ দলীয় জোটের হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা তাজুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের গৌরীপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবু তাহের খান, ১১ দলীয় জোটের ত্রিশাল-৭ আসনের প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল, ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমীর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল টিম সদস্য মোঃ আবদুল করিম, সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুর রশীদ ফরাজী, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আনোয়ার হাসান সুজন, মাহবুবুল হাসান শামীম, বায়তুলমাল সম্পাদক গোলাম মহসীন খান, কর্মপরিষদ সদস্য হায়দার করিম, আব্দুল আজিজ, খন্দকার আবু হানিফ, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারীসহ মহানগর ও জেলা জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
কিশোরগঞ্জ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আজ মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী জনসভায় কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরা সদস্য ও (নিকলী বাজিতপুর) কিশোরগঞ্জ ৫ আসন থেকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী, কিশোরগঞ্জ জেলা আমীর অধ্যাপক রমজান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান, তিনি বেলা ১১ টায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আইডি হ্যাকের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার পরও একটি রাজনৈতিক দল এটিকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, এ ধরনের নোংরা রাজনীতি জনগণ আর দেখতে চায় না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পঁচা রাজনীতি নয়, ২৪-এর যুব সমাজ পরিবর্তন চায়। তারা বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে। নারী ইস্যুকে সামনে রেখে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। চোরাই পথে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। জনতার প্রকৃত রায়কে সম্মান জানাতে জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত।
২৪ এর যুবকের ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা জেগে আছে। তার নিজের ভোটের পাহাড়াদারি করবে। তার সাথে অন্যের ভোটের পাহাড়াদারি করবে। কোনো দুর্বৃত্ত আর কারও ভোটে হাত দিতে পারবে না ইনশাল্লাহ।
আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন , কিশোরগঞ্জ ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামান রঞ্জন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম , মঙ্গলবাড়িয়া আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা তৈবুজ জামান, সাবেক জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির উত্তর আঞ্চলীয় সংগঠক আবু সাঈদ উজ্জল, জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা অমুসলিম শাখার জেলা সেক্রেটারি কৃষ্ণ চন্দ্র বসাক, সাবেক জেলা নায়বে আমীরঅধ্যাপক মোসাদ্দেক ভূঁইয়া, হিন্দু মহাজোটের যুব শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ আচার্য, জুলাই বিপ্লবের শহীদ সিফাত উল্লাহর পিতা হাফেজ মাওলানা নুরুজ্জামান , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নাদিম, চাকসুর নির্বাচিত জিএস সাইফ বিন হাবিব, চাকসুর নির্বাচিত সদস্য মুশফিকুর রহমান, হয়বতনগর আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, কিশোরগঞ্জ শহর শাখার আমীর আ ম ম আব্দুল হক, কিশোরগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল আহাদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর শিবিরের সাবেক সভাপতি, মাহাবুবুর রহমান মাহফুজ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি হাসান আল মামুন, সাবেক শিবিরের জেলা সভাপতি ফাইজুল হক উজ্জ্বল, সাবেক শিবির জেলা সভাপতি মোঃ আব্দুস সাত্তার, খেলাফত মজলিসের নেতা শফিকুল ইসলাম রুহানি, খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনী,জামাতে ইসলামীর সাবেক জেলা নায়েবে আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মাস্টার, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আকন্দ, কটিয়াদি পাকুন্দিয়া আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল, কিশোরগঞ্জ ৪ আসনের জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট রুকন রেজা শেখ, কিশোরগঞ্জ ৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী, অধ্যাপক কর্নেল অব: ডা. জিহাদ খান, বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আহনাফ সাঈদ খান, খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি আব্দুল মোমেন শের জাহান, প্রমূখ। প্রধান অতিথি কিশোরগঞ্জ ২,৩,৪,৫, ও ৬ সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদেরকে প্রতীক সহ পরিচয় করিয়ে দেন।
পাকুন্দিয়া
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, আইডি হ্যাকের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরও একটি রাজনৈতিক দল এ নিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা রাজনীতি করছে। এ ধরনের নোংরা রাজনীতি দেশবাসী আর দেখতে চায় না।
গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজ খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ মানবিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হোক। বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক একটি স্বাধীন, সম্মানজনক ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে।
কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর ও কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলীর সভাপতিত্বে ও জেলা জামায়াতে সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল হকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে জামায়াতের প্রার্থী, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদের শ্যালক প্রফেসর ডা. কর্ণেল (অব:) জেহাদ খান, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. রোকন রেজা শেখ, কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের ১১দলীয় জোটের প্রার্থী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নেতা আতাউল্লাহ আমিনী।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সদ্য জামায়াতে যোগদানকৃত বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) আহনাফ সাইদ খান. জেলা জামায়াতের সাবেক দুই আমীর মাওলানা আব্দুস সালাম ও অধ্যক্ষ মাওলানা তৈয়বুজ্জামান, সাবেক নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক ভূঁইয়া, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের সনাতনী শাখার সভাপতি কৃষ্ণ চন্দ্র বসাক, খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল আহাদ প্রমুখ।
টাঙ্গাইল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও ১১ দলীয় জোট প্রধান ডা. শফিকুর রহমান টাংগাইল বাসীকে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ঐক্যের আহবান জানিয়েছেন।তিনি বলেন, আমরা জাতিকে নিয়ে পেছনে যেতে চাই না; আমরা জাতিকে নিয়ে সামনে যেতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে শিশুটি উপযুক্ত শিক্ষা পাবে, উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে সুস্থ হয়ে বড় হওয়ার জন্যস্বাস্থ্যসেবা পাবে। নিরাপদ রাস্তা পাবে, নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাবে। এরপর যখন বড় হবে হাতে কাজ পাবে। যখন আরো বড় হবে দেশটাকে গড়ে তুলতে পারবে। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে আমার মা- আমার বোনের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত হবে। যে বাংলাদেশে প্রত্যেকের অবস্থান মূল্যায়ন হবে।
গতকাল বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট টাঙ্গাইল জেলা শাখা এ নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করে।
তিনি বলেন সবাইকে সমান দেয়ার নাম ন্যায় বিচার নয়। যার যেটা ন্যায্য পাওনা তাকে সেটাই দিতে হবে-এর নাম ন্যায়বিচার। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে আইন হবে সবার জন্য সমান। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে তার যে নির্দিষ্ট শাস্তি হবে দেশের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী একই অপরাধ করলে তাদেরকেও ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। তাদেরকেও একই বিচারের মুখোমুখী হতে হবে। বিচারের নামে কোন দায়মুক্তি নাই। এই ন্যায়বিচার যখন কায়েম হবে তখন বাংলাদেশ রকেট গতিতে এগিয়ে যাবে। জুলাইয়ে ন্যায়বিচার ও কর্মের দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল। আমাদের তরুণ যুবকেরা বেকার ভাতা নয় কাজ চায়।আল্লাহর ইচ্ছায় ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে যুবকদেরকে কাজ দিয়ে সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা আর পেছনে যেতে চাই না।
তিনি বলেন, আমরা সিজনাল পলিটিশিয়ান না। আমরা বসন্তের কোকিল না। যখন নির্বাচন আসবে, নতুন রঙ ধারণ করে সুন্দর সুন্দর কথা নিয়ে আমরা হাজির হবো না। আপনারা সাক্ষী, সাড়ে ১৫ বছর আমাদের উপর এতো জুলুম হওয়ার পরও আমরা একদিনের জন্যও জনগণকে ছেড়ে যাইনি। এই মাটি কামড় দিয়েই আমরা ছিলাম। আল্লাহ আমাদের এখানে রেখেছিলেন। দফায় দফায় জেলে গিয়েছি, ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়েছি, অফিসে ঢুকতে পারি নাই। কিন্তু বাংলাদেশে ছিলাম। ভবিষ্যতে দুর্দিন, সুদিন আসবে কিনা -আল্লাহ জানেন, কথা দিচ্ছি আপনাদের ছেড়ে কোথাও যাবো না ইনশা আল্লাহ। আছি, থাকবো। আপনাদের সুখেও থাকবো, দুখেও থাকবো। আমরা এখন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি।
জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জোহরা খাতুন জুই, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানি, ঢাকা উত্তরাঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও টাংগাইল ৪ কালিহাতী আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি ও টাংগাইল ২ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবির, সহকারী সেক্রেটারি ও টাংগাইল ৮ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, টাংগাইল ৭ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ তালুকদার, টাংগাইল ১ মধুপুর ধনবাড়ি আসনের প্রার্থী ডা. আব্দুল্লাহ হেল কাফি, টাংগাইল ৬ আসনের প্রার্থী ডা. একেএম আব্দুল হামিদ, টাংগাইল ৩ আসনের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির সাইফুল্লাহ হায়দার, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুল ইসলাম, ইত্তিহাদুল উম্মার আমীর মুফতি আব্দুর রহমান মাদানি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি আব্দুল মালেক, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাও. যায়েদ হাবিব, এবি পার্টির আহবায়ক এডভোকেট আলাউদ্দিন খালিদ, ইসলামি ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর ও টাংগাইল ৫ সদর আসনের প্রার্থী আহসান হাবীব মাসুদ, সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির ও সহকারী সেক্রেটারি হোসনে মোবারক বাবুল।