এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞ-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল ম-লকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি এ মামলায় আবদুল জলিলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবদুল জলিলকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর আগে সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় পরোয়ানা ছিল।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের আন্দোলনের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবদুল জলিল। এছাড়া র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ এপ্রিল দিন ধার্য রয়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ঠিক করেন।
বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা ম-লীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
শাপলা চত্বরে হত্যা মামলা তদন্তে রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি থাকলেও রেহাই নেই- চিফ প্রসিকিউটর
গতকাল নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল ম-ল এ মামলার প্রধান কুশীলব। শাপলা চত্বরের ঘটনায় রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি থাকলেও তদন্ত থেকে বাদ পড়বেন না। এ মামলার তদন্তকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করতে পারব বলে আশা করছি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আবদুল জলিল ম-লের বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। আমরা তাকে খুঁজছিলাম। অবশেষে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাকে আজ কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আগামী ৫ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, আগামী তারিখের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল সাপেক্ষে আমরা ফরমাল চার্জ দাখিলের চেষ্টা করব। তবে খুব সহসা শাপলা চত্বরের মামলাটির বিচার শুরু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি, যেন ফরমাল চার্জ দাখিল সাপেক্ষে বিচারকার্য দ্রুত শুরু হয়।
আবদুল জলিল প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল অনেক। তার পরিকল্পনাতেই সব ঘটনা ঘটেছে; তদন্তে আমরা এমনই কিছু পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা আরও অনুসন্ধান করছি। আশা করছি আগামী তারিখের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেয়ে যাব।
তিনি উল্লেখ করেন, এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে তৎকালীন পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদও রয়েছেন।