বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) বিজ্ঞানীদের পদোন্নতি নীতিমালা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিভাগভিত্তিক (ডিসিপ্লিন-বেজড) পদ্ধতি থেকে সরে গিয়ে ‘এন্টিডেটেড সিনিয়রিটি’ ভিত্তিতে পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সংক্ষুব্ধ একাধিক বিজ্ঞানীর পক্ষে ইতোমধ্যে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্রি’র প্রচলিত কাঠামো অনুযায়ী পদোন্নতি নির্ধারিত হয় জ্যেষ্ঠতা, দক্ষতা ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষায়নের সমন্বয়ে। এই পদ্ধতির মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানটি গবেষণায় সুনাম অর্জন করেছে। তবে সাম্প্রতিক প্রস্তাবে এ কাঠামো উপেক্ষা করে ভিন্নভাবে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা গবেষণার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনজীবী কল্যাণ কুমার সাহার পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, এ ধরনের পদোন্নতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বার্ক) প্রণীত নির্দেশনা এবং ব্রি প্রবিধানমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি হতে হবে মেধা ও জ্যেষ্ঠতার সমন্বয়ে এবং তা অবশ্যই বিভাগভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে। শুধুমাত্র জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ নেই।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তিকরভাবে পদোন্নতির যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও গবেষণা কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ব্রি’র গবেষণা, দায়িত্ব বণ্টন ও পদ কাঠামো যেহেতু বিভাগভিত্তিক, তাই পদোন্নতিও একই নীতিতে হওয়া উচিত। অন্যথায় দক্ষতা মূল্যায়ন ব্যাহত হবে এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নীতিমালা লঙ্ঘন করে কোনো পদোন্নতি দেওয়া হলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান মহাপরিচালকের অবসরের আগে দ্রুত এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে, যা নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চললেও এ বিষয়ে ব্রি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত স্বচ্ছ ও নীতিসম্মত সিদ্ধান্ত না এলে বিষয়টি আইনি জটিলতায় রূপ নিতে পারে এবং তা ব্রি’র স্বাভাবিক কার্যক্রমসহ দেশের কৃষি গবেষণা খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।