পুঠিয়া (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারসহ একাধিক স্থানে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের খানাখন্দ যেন দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের বেহাল দশা চরম আকার ধারণ করায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে জনভোগান্তি। ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন হাজারো যাত্রী, চালক ও পথচারী। এর ফুটপাতগুলো দখল হয়ে থাকায় জনচলাচলেও বিঘœ ঘটছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় বাস ও ট্রাকসহ ভারী যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে রাস্তার একেবারে ধার ঘেঁষে চলাচল করছে। ফলে পথচারীদের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মহাসড়কের পাশের দোকানিরা নিজেদের দোকানের মালামাল ফুটপাত দখল করে সাজিয়ে রাখছেন। এতে সাধারণ মানুষ ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক দিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে কিছু গর্তে বড় বড় ইট ফেলে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও স্থায়ী সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই গর্তগুলো আরো বিপজ্জনক রূপ ধারণ করছে। ইউনুস আহমেদ নামের এক পথচারী বলেন, “রাস্তা এমনিতেই ভাঙাচোরা, তার ওপর ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় হাঁটার পরিবেশ একেবারেই নেই। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।” ট্রাক চালক মতিউর রহমান বলেন, রাস্তার গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাস চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের বানেশ্বর অংশ এতাই নষ্ট যে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। রাস্তার এক পাশে যেতে বাধ্য হওয়ায় সামনে-পেছনের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে।

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমান বলেন, “ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের খানাখন্দের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এবং আমরা কয়েক দিনের মধ্যে বেশ কিছু জায়গা দখল মুক্ত করে দিয়েছি। পথচারিদের সুবিধার জন্য বাকি যেগুলো রাস্তার ধারে অবৈধ স্থাপনা আছে সেগুলো আমরা অপসারণ করবো। যাতে পথচারিদের কোনো কষ্ট না হয়। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”