বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করেন অথবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন, তবে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী - ৩ এর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু দ্বৈত নাগরিক হওয়া সত্বেও তাঁর মনোনয়ন বৈধতা পায়।

এব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার ও ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান," আবদুল আউয়াল মিন্টু নাগরিকত্ব ত্যাগের যে আবেদন করেছেন তার প্রমাণাদি পেশ করেছেন"।আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,"এতদসংক্রান্ত কাগজপত্র তিনি পরে জমা দিয়েছেন"।

এই প্রসঙ্গে আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,"আবেদন করা যথেষ্ট নয় বরং বাতিল হয়েছে মর্মে সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে"।

অনেকেই তাঁদের হলফনামায় নাগরিকত্ব ত্যাগের ভুয়া তথ্য বা অসমাপ্ত আবেদনের কপি দাখিল করে নির্বাচন কমিশনকে বিভ্রান্ত করছেন। অথচ আন্তর্জাতিক আইনে অসমাপ্ত আবেদন কোনোভাবেই নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ নয়। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের সময় দেশত্যাগকারী একাধিক সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে এই দ্বিচারিতার বাস্তব উদাহরণ রয়েছে। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই বিপজ্জনক প্রবণতা আবারও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা কোনো মৌখিক ঘোষণা নয়, কোনো তাৎক্ষণিক বিষয় নয়। এটি একটি সময়সাপেক্ষ প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া।

যুক্তরাজ্যে যদি কেউ অন্য দেশের নাগরিকত্ব পেতে নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন এবং পরে তা ফিরে পেতে চান, তবে তিনি জীবনে একবার 'Right of Registration' সুবিধা পেতে পারেন।

কানাডায় সরাসরি নাগরিকত্ব না ফিরলেও, ত্যাগের পর পুনরায় কানাডায় ফিরে গিয়ে নির্দিষ্ট সময় বসবাসের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের (Resumption) আইনি আবেদন করা যায়।

অস্ট্রেলীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করে পুনরায় তা ফিরে পাওয়ার (Resumption) আবেদন করা যায়। সেক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কেউ একবার স্বেচ্ছায় নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তা পুনরুদ্ধার প্রায় অসম্ভব। সাধারণত নতুন করে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

এক্ষেত্রে কেবল কাগজের হলফনামা নয়, বরং ডিজিটাল ভেরিফিকেশন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রার্থীদের সত্যতা যাচাই করা আবশ্যক।

বাংলাদেশের সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষায় দ্বৈত নাগরিকত্বের ধোঁয়াশা দূর করা অপরিহার্য।

মিথ্যা তথ্য প্রদান বা নাগরিকত্ব গোপন করার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশনকে (EC) সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস থেকে নাগরিকত্ব ত্যাগের 'চূড়ান্ত সনদ' (যেমন: CLN বা Certificate of Renunciation) যাচাই করতে হবে। শুধু ব্যক্তিগত দাবি বা পাসপোর্টের ফটোকপি গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা।