ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে গাজীপুর-২ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন রাজনৈতিক উত্তাপ ও সমন্বয়ের এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। এই আসনে সর্বোচ্চ ১৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, তার স্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য দলীয় প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে করেছে বহুমাত্রিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং প্রয়াত বিএনপি নেতা এম এ মান্নানের সন্তান। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে তার স্ত্রী তাপসী তন্ময় চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। একই সঙ্গে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় শ্রমিকদল নেতা সালাউদ্দিন সরকারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ হোসেন আলী প্রথম থেকেই একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দলের তৃণমূলকে সক্রিয় করতে মাঠ পর্যায়ে তৎপর। শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুর মহানগরের শ্রমিকদের বৃহত্তরটি অংশ এ প্রার্থীকে নিয়ে তৎপর রয়েছেন।
তাছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী আলী নাসের খানও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। চলমান জোট কার্যক্রম অনুসারে শোনা যাচ্ছে, জামাত ও এনসিপির মধ্যে সমন্বয় অনুযায়ী আলী নাসের খান জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।
এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর জামাতের আমি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, 'জোটের সিদ্ধান্ত যেভাবেই আসবে, আমরা তা সম্মান করে একসাথে নির্বাচন পরিচালনা করব। যদিও কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে, আমরা দলীয় সমন্বয় ও শৃঙ্খল বজায় রেখে এগিয়ে যাব। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমরা নির্বাচনী মাঠে সুসংহতভাবে অংশগ্রহণ করব এবং সবার স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে কাজ করব। আমাদের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করা।'
গাজীপুর-২ আসনের অন্যান্য মনোনয়নপত্র দাখিলকারীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হানিফ সরকার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোঃ জিয়াউল কবির, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)র মাসুদ রেজা, গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র জিত বড়ুয়া, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সরকার তাসলিমা আফরোজ, স্বতন্ত্র তাপসী তন্ময় চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মোঃ মাহবুব আলম, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ ইসরাফিল মিয়া, খেলাফত মজলিসের খন্দকার রুহুল আমিন, জনতার দলের মোঃ মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)র মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)র আব্বাস ইসলাম খান এবং গণঅধিকার পরিষদের মাহফুজর রহমান খান।
এমন বহুমাত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং স্বামী-স্ত্রীর একসাথে নির্বাচনী অংশগ্রহণ, জামাত-এনসিপি জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীতা, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীসহ মোট ১৮ প্রার্থীকে নিয়ে গাজীপুর-২ আসন এবারের নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত আসনে পরিণত হয়েছে। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই এবং প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আসনের রাজনৈতিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গাজীপুর-২ আসনটি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৯ থেকে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড, ৪৩ থেকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড (টঙ্গী) এবং ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।