সিলেট ব্যুরো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সিলেটে এসেছেন হাজারো প্রবাসী। তারা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে জোর প্রচারণাও চালিয়েছেন গত দুই সপ্তাহ ধরে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বহুল প্রত্যাশিত আজ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আনন্দা উচ্ছাস দেখা দিয়েছে। সিলেটবাসীর চাওয়া একটি আনন্দমুখর পরিবেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।

বাংলাদেশের আধ্যত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেটের কয়েক লাখ মানুষের কর্মস্থল প্রবাসে। যার কারণে সিলেটকে প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা বলা হয়। সিলেটের মানুষ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বেশি থাকায় সিলেটকে দ্বিতীয় লন্ডন বলা হয়। সিলেটের বেশিরভাগ মানুষজনের আয়ের প্রধান উৎসই রেমিট্যান্স। এ অঞ্চলের গ্রামে গেলে অনেক বাড়িতে অন্তত একজন করে হলেও প্রবাসী পাওয়া যায়। সিলেটের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রবাসীরা কেবল ভোটার হিসেবেই নয় বরং নির্বাচনী প্রচারণার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন। যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা প্রবাসীরা ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়েছেন, গণসংযোগ করেছেন। অংশ নিয়েছেন প্রচারমিছিলেও। বিএনপি ও জামায়াতের সিলেটের সমাবেশে ও প্রার্থীদের সাথে প্রচারণায় দেখা গেছে প্রবাসীদের। তারা প্রার্থীদের নিয়ে প্রচারণার পাশাপাশি প্রচার মিছিলও করেছেন।

সিলেট জেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের ৬টি আসনেই প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ করে নেতাকর্মীরা দেশে এসেছেন। তারা এসে দল ও দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তারা এসেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি যুক্তরাজ্য থেকে এসেছেন।

আর জামায়াত সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ৬টি আসনে প্রায় সহস্রাধিক নেতাকর্মী দেশে এসেছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতিত ছিলেন। নানা নির্যাতন ও মামলা নিয়ে তারা প্রত্যেকেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বর্তমানে দেশে একটি নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ থাকায় তারা দেশে এসে নিজ দলের হয়ে কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সাবেক শিবিরের নেতাকর্মী বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স সহ ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তারা এসেছেন।