আশাশুনি (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নে জোরপূর্বক মৎস্যঘের দখল, মাছ লুট, বসতঘরের মালামাল লুটপাট,মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দীর্ঘ ৮ মাস ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মৎস্যঘের উদ্ধার করতে না পেরে অসহায় হয়ে পড়েছেন ইউনুছ আলী গাজী। শ্রীউলা ইউনিয়নের মৃত নেছার উদ্দীন গাজীর ছেলে ইউনুছ আলী গাজী এ ঘটনায় আশাশুনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শ্রীউলা মৌজার জে.এল নং৯৯-এর আওতাধীন বিভিন্ন দাগে মোর্ট ৬.০২ একর জমিতে তিনি ২০০১ সাল থেকে মৎস্যচাষ করে আসছেন। এর মধ্যে ৪.৩৩ একর পৈত্রিক ও ১.৬৯ একর জমি ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত। গত ১৬ মে ২০২৫ তিনি হজ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকায় অবস্থানকালে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে একই এলাকার মহব্বত আলী গাজী, মোস্তফা সরদার, তার দুই ছেলে সাদ্দাম ও খালিদ,খায়রুল ও আশারুলসহ ১০-১৫ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে তার মৎস্যঘের জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এ সময় তারা বাগদা, গলদা ও অন্যান্য মাছ মেরে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি করে। এছাড়া ঘরে থাকা জাল, কোদালসহ প্রায় ১ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়।

বর্তমানে ঘেরসংলগ্ন ঘরটিও দখলে রেখেছে বলে অভিযোগ। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ বা সাক্ষ্য দিতে সাহস পাচ্ছে না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বিবাদীদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা ও জিডি হলেও ঘেরটি এখনো উদ্ধার হয়নি বলে জানান বাদী। এদিকে মৎস্যঘের এওয়াজ বণ্টন সংক্রান্ত কমিটি, জেলা আইনজীবী সমিতি এবং পূর্ববর্তী সময়ে উপজেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার ও আদালত থেকে একাধিকবার বাদীর পক্ষে আদেশ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ইউনুছ আলী গাজী মৎস্যঘের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি, সেনা ক্যাম্প কমান্ডার, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।