বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যোগ হলো রামপালের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টে (এমএসটিপিপি)। বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) পরিচালিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অভূতপূর্ব ৭০০ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে—যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ইতিহাসে কোনো একক প্ল্যান্টের সর্বোচ্চ মাসিক উৎপাদন হিসেবে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে।
বিআইএফপিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নভেম্বর মাসের এই অর্জন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যকারিতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং পরিকল্পিত পরিচালন দক্ষতার বাস্তব উদাহরণ। পুরো মাসজুড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছে দেশের মোট বিদ্যুৎচাহিদার প্রায় ১১.৫ শতাংশ যা একটি একক স্থাপনার জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিআইএফপিসিএল হলো বাংলাদেশের বিপিডিবি এবং ভারতের এনটিপিসির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি প্রকল্প, যা দু’দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। মৈত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্রের রেকর্ড উৎপাদন শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতারই প্রতিফলন নয়; বরং কার্যকর কয়লা ব্যবস্থাপনা, দক্ষ আর্থিক পরিকল্পনা এবং আধুনিক অপারেশনাল সিস্টেম ব্যবহারের একটি সমন্বিত ফল।
এর আগে কেন্দ্রটি নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে ৬০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় চাহিদার প্রায় ৮ শতাংশ সরবরাহ করে আসছিল। তবে নভেম্বরের এই রেকর্ড উৎপাদন দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় স্থিতিশীলতার প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে এমএসটিপিপি শিল্প, গৃহস্থালি এবং বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের সমগ্র বিদ্যুৎ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কেন্দ্রটি বর্তমানে একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।