গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল)অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা। সভায় অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন, ড্রেনেজ উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের এমপি এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-১ আসনের এমপি মোঃ মজিবুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শুরুতেই জিসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক একটি তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সামগ্রিক কাঠামো, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন দেশের আয়তনের দিক থেকে বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন, যার আয়তন ৩২৯.৫৩ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৪৫ লাখ। ৫৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই নগরীতে দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ গার্মেন্টস শিল্প অবস্থিত, যা জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল হাসান বলেন, ‘গাজীপুর একটি দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পনগরী হওয়ায় এখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। আমরা সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী রাস্তা সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ উন্নয়ন, খাল পুনঃখনন এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করছি। সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) স্থাপনসহ টেকসই ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য গাজীপুর গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

সভাপতির বক্তব্যে জি সিসি প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার গাজীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান সমস্যা জয়দেবপুর রেলক্রসিংয়ের স্থায়ী সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘রেল মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়া সাপেক্ষে আগামী কোরবানির ঈদের পর জয়দেবপুর রেলস্টেশনে ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে যানজট নিরসনসহ নগরবাসীর ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।’ সভায় অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যরা উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়াতে কার্যকর সমন্বয়, মাননিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভা শেষে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম জনতার রায়ে নির্বাচিত মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন, শক্তিশালী মনিটরিং এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গাজীপুরকে একটি আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও টেকসই নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্য এখন আরও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে।